মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি মৃধাবাড়ি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে মুন্না মৃধা (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাঁর হাতের রগ কেটে নির্যাতন করা হয়। পরে বাড়ির বাইরে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে স্বজনরা মুন্না মৃধাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মুন্না মৃধা ওই এলাকার মরন আলী মৃধার ছেলে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আতাউল করিম জানান, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বাম হাতের রগ কাটা ছিল। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাছেড়া ও রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
নিহতের স্ত্রী সালেহা বেগমের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তাঁরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় ঝিংকু, সুমন, বাবু মিজিসহ কয়েকজন তাঁদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাঁরা ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে বাধা দিলে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাঁর স্বামীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
সালেহা বেগম বলেন, কিছুক্ষণ পর তাঁকে পাশের একটি নির্জন স্থানে যেতে বলা হলেও তিনি সেখানে যাননি। এরপর অভিযুক্তরা আবার তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং হুমকি দেয়। রাত ৩টার দিকে তাঁকে ডেকে জানানো হয়, তাঁর স্বামীকে বাড়ির বাইরে রেখে যাওয়া হয়েছে। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় মুন্না মৃধাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. কামরান হাসান জানান, নিহত মুন্না মৃধার সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত সুমন মিজির বিরোধ ছিল। সুমন মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। সে সময় তাঁর মাদকসংক্রান্ত কিছু মালামাল মুন্না নষ্ট করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সুমন মুন্নার কাছে ওই মালামালের জন্য টাকা দাবি করেন। এ বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্য জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।