মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলার ৩৫৭টি পূজামণ্ডপে ভক্তদের আহার্যের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবার চালের বরাদ্দ ৬৯.৭০ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের আওতায় সদর, গজারিয়া, টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ে পূজা উদযাপন কমিটিগুলো যাতে নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দের চাল পেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দের তথ্যে দেখা যায়, সদর উপজেলার ৪৪টি পূজামণ্ডপের জন্য ২৬.৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গজারিয়া উপজেলার ১০টি পূজামণ্ডপের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ৬ মেট্রিক টন চাল। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ৫২টি পূজামণ্ডপের জন্য ৩১.২০ মেট্রিক টন এবং লৌহজং উপজেলার ৩৭টি পূজামণ্ডপের জন্য ২২.২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলার ১২৯টি পূজামণ্ডপের জন্য ৭৭.৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীনগর উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ৫১ মেট্রিক টন চাল।
উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দের হিসাবে সিরাজদিখান উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে কম বরাদ্দ রয়েছে গজারিয়া উপজেলায়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুবিনুর রহমান জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় পূজা উদযাপন কমিটিগুলো যাতে বরাদ্দকৃত চাল নির্দিষ্ট সময়ে বুঝে পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, এবার মণ্ডপপ্রতি চালের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৬৯.৭০ মেট্রিক টন চাল বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের আহার্যের জন্য সরকারি সহায়তার পরিমাণ বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে এ চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দের চাল সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ বরাদ্দের আওতায় জেলার ছয়টি উপজেলার মোট ৩৫৭টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুবিনুর রহমান। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধির তথ্যও জানিয়েছেন তিনি।
তবে বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্যে মোট চালের পরিমাণ নিয়ে একটি অসংগতি রয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে মোট বরাদ্দ ২৪২.২০ মেট্রিক টন উল্লেখ করা হলেও উপজেলা অনুযায়ী দেওয়া পরিমাণগুলোর যোগফল ২১৪.২০ মেট্রিক টন।
আবার ৩৫৭টি মণ্ডপে প্রতিটি ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের হিসাবে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২১৪.২০ মেট্রিক টন। তাই প্রকাশের আগে মোট বরাদ্দের পরিমাণটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস থেকে পুনরায় যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।