জামায়াতে ইসলামীর জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তাদের আচরণে মুনাফিকি ছাড়া অন্য কিছু দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের মুখে একটা, অন্তরে আরেকটা। তারা মুখে বলছে সরকারকে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলন করা যায়, সেই অপচেষ্টা করছে।’
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভাষা আর জামায়াতের ভাষার মধ্যে এই মুহূর্তে কোনো পার্থক্য নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ডিসেম্বর মাসকে বেছে নিয়েছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে আমরাও ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকব। আমরা দেখতে চাই, ডিসেম্বরে কারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে।’
সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা সরকারকে সহযোগিতা না করে সরকার পতনের আন্দোলন করবে কিংবা সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের রুখে দেবে।
শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত ওই হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামের নাম ও লেবাস ব্যবহার করে যারা ইসলামের ক্ষতি করছে, তাদের কর্মকাণ্ড তিনি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ‘জান্নাতের টিকিট’ বিতরণের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা হয়েছিল, সে বিষয়েও হেফাজতের আমির মানুষকে সচেতন করেছেন। যারা এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, তারাও তার বক্তব্যের মাধ্যমে সচেতন হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বললেও তাদের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী রাজনীতির কথা বলে জামায়াত ইসলামী মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে গেছে। ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না। আপনারা যে ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য মাঠে-ময়দানে রাখছেন, এতে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে।’
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, পবিত্র জুমার দিনে তিনি দোয়া নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।
তিনি জানান, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন এবং বিএনপি ও দেশের মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্যাহ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি ফয়সাল হাবিব, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দীন শাহিন এবং উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম লাভলু প্রমুখ।