শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
শরীরে দানা বাঁধা অমানুষিক রোগের যন্ত্রণা, আর পকেটে চিকিৎসার ন্যূনতম টাকাটুকু না থাকার নির্মম বাস্তবতা এই দুয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে বিষাদের পথ বেছে নিলেন বগুড়ার শেরপুরের এক বস্তা সেলাই শ্রমিক। পেটের খিদে মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পক্ষাঘাত ও জটিল ব্যধির সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত মাসুদুর রহমান (৫৫) কীটনাশক (গ্যাসের বড়ি) খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। নিহত মাসুদুর রহমান উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণবীর বালা ঘাটপাড় এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে।
অভাবের সংসারে চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি
পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, পেশায় বস্তা সেলাই শ্রমিক মাসুদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানি, অ্যাজমা ও পেটে পাথরসহ নানা জটিল ও মারাত্নক ব্যাধিতে ভুগছিলেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিদিনের রোগের তীব্র যন্ত্রণা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মাসুদুর গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।
রাতে (২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে) নিঃশব্দে বাড়িতে ফিরে কারোর সাথে কোনো কথা না বলে বিছানায় শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখে এবং শরীর থেকে তীব্র কীটনাশকের গন্ধ পেয়ে পরিবারের স্বজনেরা আঁতকে ওঠেন।
মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও পরিবারের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা না চাপানোর আকুতি ফুটে উঠেছিল তাঁর কথায়। স্বজনেরা হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি আকুল কণ্ঠে বারণ করে বলেছিলেন, “আমাকে আর হাসপাতালে নেওয়ার দরকার নাই।”
তবে স্বজনেরা বিষপানের বিষয়টি বুঝতে পেরে কালবিলম্ব না করে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ওই রাতেই (রাত ১১টা ৫০ মিনিটে) জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতের ১৮ বছর বয়সী ছেলে মো. আহসান হাবিব বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, দীর্ঘদিন ধরে কঠিন ব্যাধিতে ভুগে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে রোগযন্ত্রণা ও মানসিক কষ্টে আত্মহত্যা করেছেন বলেই জানা গেছে। লাশটি বর্তমানে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।