বর্তমান সরকারকে ‘বিএনপির সরকার নয়, হাসিনার সরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির প্রতিটি কর্মীর ঘরে ঘরে আজ কান্নার রোল শুরু হয়ে গেছে।’ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভকে ঘিরে একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। ক্ষমতা হারালে সুযোগ-সুবিধা হারানোর আশঙ্কার সঙ্গে বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষমতা চলে গেলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ সময় বর্তমান সরকারকে নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারেকের যে সরকার, এটা বিএনপির সরকার না; এটা হলো হাসিনার সরকার।’ তারেক রহমান ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে অলি আহমেদ বলেন, দেশকে সঠিক পথে আনতেই তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। এর পেছনে ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কোনো উদ্দেশ্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বক্তব্যে প্রভাবিত না হয়ে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এলডিপি চেয়ারম্যান।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ইতিহাসে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বর্তমান সরকারকে সতর্ক করতেই ১১ দল রাজপথে নেমেছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, তাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব চলছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবি তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা হরতালে যাইনি, আমরা অপরাধে যাইনি। জনদুর্ভোগ যতটা সম্ভব কম রেখে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছি।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ১১ দলের এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে। তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণসম্পৃক্ত হবে বলেও জানান তিনি। জনগণের দাবি পূরণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হলে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের চাপে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি—এই অভিযোগ জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তাদের লংমার্চ কর্মসূচি।
সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলামও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জুলাই সনদের সঙ্গে সরকার প্রতারণা করেছে এবং দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।