ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা জাহাবপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজীপাড়া গ্রামে কবর খুঁড়ে একজন মৃত্যুর কঙ্কাল চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সিয়াম হোসেন (২৬) নামে স্কুলপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরির মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজিপাড়া নামক গ্রামে। অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষার্থী একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও কাজিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাস পূর্বে ধামইরহাট উপজেলার কাজিপাড়া এলাকার মোখলেছুর রহমানের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি তার কবরস্থানে গিয়ে কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরি হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কবরস্থানে জড়ো হন অনেকেই।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। কবরের পবিত্রতা রক্ষা, মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে দ্রত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হলে ওই শিক্ষার্থীর নাম সামনে আসে বলে দাবি করেছেন নিহতের সন্তান ও জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস আলম। তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে এক বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও শতশত মানুষের নিকট সে কঙ্কাল চুরির ঘটনাটি নিজ মুখে স্বীকার করেন।
তিনি আরো স্বীকার করেন ২০-২৫ দিন আগে সে কবর থেকে কঙ্কাল চুরি করেন।পরে এলাকাবাসী চাপে মৃত্যুের মাথার খুলি ও কিছু হাড় জনসম্মুখে ফেরত দেন।
জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের ও মুরহুমের বড় ছেলে বিমর্ষ ও আক্ষেপ করে বলেন এমন কান্ডে আমরা হতবিম্বল ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। আমরা এর উপযুক্ত বিচার কামনা করি। কিন্তু আমি কোথাও এর সঠিক বিচার পাচ্ছিনা। আমার বাবার কঙ্কাল চুরির ঘটনার আমি প্রশাসনের নিকট সঠিক বিচার আশা করছি।
এ বিষয়ে জাহানপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মওদুদ আহমেদ মহির এর নিকট ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। গত শুক্রবার দুপুরে গ্রাম্য বিচারে উপস্থিত ছিলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমি কিছু জানিনা বলে সে ফোন কেটে দেন।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান জানান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পরিবারের পক্ষে থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।