মো. খোকন
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
আগাম তরমুজ বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার পরিকল্পনায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার অনেক কৃষক এবার আমন ধান চাষ করেননি। ফলে চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২০ হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদী পড়ে রয়েছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, আমন আবাদ করলে ধান কাটা ও জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ করতে করতে আগাম তরমুজ বপনের সময় চলে যাবে। তবে যে তরমুজের আশায় জমি ফাঁকা রাখা হয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সেই আবাদ নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিস্তীর্ণ জমি চাষাবাদ ছাড়াই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে এ চিত্র বেশি চোখে পড়েছে। এসব জমিতে আমন ধানের পরিবর্তে আগাম তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের হিসাবে, কার্তিক মাসের মধ্যেই আগাম তরমুজ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে হয়। জমিতে আমন ধান থাকলে তা কাটা এবং নতুন করে জমি তৈরিতে অতিরিক্ত সময় লাগে। এতে আগাম চাষের সুযোগ হারিয়ে তরমুজ মৌসুমি ফসলে পরিণত হয়। বাজারে দেরিতে তরমুজ উঠলে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. লিটন সিকদার ও রিসাদ হাওলাদার জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার জমি প্রস্তুত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমন চাষ করলে তরমুজের জন্য যথাসময়ে জমি পাওয়া যাবে না। আবার দেরিতে তরমুজ লাগালে রোগ ও ভাইরাসের আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এসব বিবেচনায় তারা জমিতে আমন আবাদ করেননি।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগাম তরমুজ চাষের পরিকল্পনায় এবার প্রায় ১ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়নি। অথচ অন্তত এক মাস আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হলে এসব জমিতে আমন ধান চাষ করা যেত।
তার মতে, তরমুজ চাষের জন্য নির্ধারিত জমিগুলোতে আমন মৌসুম থেকেই পরবর্তী ফসলের পরিকল্পনা করতে হবে। সঠিক সময়ে জমি তৈরি এবং ফসল ব্যবস্থাপনা করা গেলে একই জমিতে আমন ধান কাটার পর আগাম তরমুজও উৎপাদন করা সম্ভব।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে দুই মৌসুমের ফসল আবাদ করলে জমি খালি থাকবে না। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।