মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে আটজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকায় বাসটির চাকা স্লিপ করে। একই সঙ্গে বাসটির গতি তুলনামূলক বেশি ছিল।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, মাগুরা থেকে ঢাকাগামী নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি উল্টে যায়।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০) ও লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এলাকার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা এলাকার নূর ইসলাম (৪৬) ও রশিদা (৪০), মাগুরার মোহাম্মদপুরের সাত বছর বয়সী ফাতেমা, শ্রীপুরের সাইফ (২৩) এবং ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার আরাফাত (১৩)।
দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশে উল্টে পড়ে থাকায় ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, বাসটির গতিবেগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেতু কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা টহল গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সিসিটিভি ফুটেজে বাসটিকে অতিরিক্ত গতিতে চলতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকায় বাসটি স্লিপ করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ চলছে।