মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের তিন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমির হোসেন। গত ১৬ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন […]

কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৪

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের তিন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমির হোসেন।

গত ১৬ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন অন্তু দাস, মোহাম্মদ হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সরোয়ার হোসেন রিয়াদ আমির হোসেন, অপূর্ব ও ইউসুফ ইকবালকে তাঁর কক্ষে ডাকেন। সেখানে রিয়াদ, হাসান ও অন্তু আমিরকে রাত ৩টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে র‍্যাগিং করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আমির লুঙ্গি পরে ওই কক্ষে যাওয়ায় তাঁকে নগ্ন করে পুরো হল ঘোরানোর হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা তাঁকে বারবার মারতে উদ্যত হন। ভয়ে আমির বারবার ক্ষমা চাইলেও এবং নিজের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথা জানালেও র‍্যাগিং বন্ধ করা হয়নি। একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে তিনি অভিযুক্তদের কক্ষ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী আমির হোসেন বলেন, ‘আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত র‍্যাগিং করেছে তারা। এ সময় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বারবার মারতে তেড়ে আসে। আমি ক্ষমা চাইলেও তারা র‍্যাগিং বন্ধ করেনি। একসময় আর সহ্য করতে না পেরে রুম থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসি।’

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর আমির নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্তু দাসকে মুঠোফোনে হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তু কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আমিরের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

গত ২০ আগস্ট থানার এসআই জিয়াউর রহমান আমিরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আমির তাঁকে পুরো ঘটনা জানালে এসআই তাঁকে পাল্টা জিডি করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে আমির বলেন, ‘চার মাস আগে আমার বাবা মারা যান। আমি টিউশন করিয়ে নিজের পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচ চালানোর পাশাপাশি বাড়িতেও টাকা পাঠাই। এসব কারণে আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। ওই রাতের ঘটনার পর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। সারা রাত ঘুমাতে না পেরে কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এতে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ঘটনার পরের দিন অন্তুকে ফোন করে হুমকি দিই। তবে তাকে হুমকি দেওয়ার পেছনে কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল না।’

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে জানালে তিনি ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে বসেছি এবং তাদের কাউন্সেলিং করেছি। যেহেতু এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের বিষয় ছিল, তাই বিভাগের সিনিয়র ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পরে তারা আমাকে জানিয়েছিল, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। তবে আজ জানতে পারলাম, ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমার পক্ষ থেকে যা করার ছিল, আমি করেছি।’

অভিযুক্ত অন্তু দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। র‍্যাগিংয়ের মতো সেখানে কিছুই হয়নি। সে হয়তো ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। বরং সে আমাদের রুম থেকে যাওয়ার সময় খুব বাজে ব্যবহার করে যায়।’

জিডি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমির আমাকে তার ভাইয়ের মাধ্যমে হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি থানায় জিডি করেছি।’

এ বিষয়ে এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে অন্তু দাস নামে একজন শিক্ষার্থী একটি অনলাইন জিডি করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়েই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত আমিরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, অন্তু দাসসহ তিনজন মিলে তাকে র‍্যাগ দিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এটি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়, প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে সমাধান করা হলে সবচেয়ে ভালো হবে।’

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হলে ওঠার বিষয় নিয়ে তারা আমার রুমে এসেছিল। সে যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, সেগুলো মিথ্যা।’

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী সরোয়ার হোসেন রিয়াদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে আমি সহযোগিতা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগপত্র আমরা পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।