নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদনের একটি মহিলা কওমি মাদ্রসার ১১বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে পর জন্ম নেওয়া নবজাতকের সাথে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ কৌঁসলী অ্যাডভোকেট নূরুল কবির নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২৩এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে র্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গত ৬মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
এরপর গত ১৭মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২৮জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়।
অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেপ্তা্রের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার পক্ষে সাফাই করেছিলেন নেত্রকোনা জেলা খেলাফত আন্দোলনের সভাপতি ও ইসলামী বক্তা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষা যদি নবজাতকের সাথে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগরের মিল পাওয়া যায় তাহলে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোন বিবাহিত পুরুষ যদি কোন ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাকে জনসম্মুখে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হয়। আমরা চাই রাষ্ট্র এই বিধানটি বাস্তবায়ন করুক।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।