মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কচুরিপানার দখলে চলনবিল, নষ্ট হচ্ছে বিলের সৌন্দর্য, বাড়ছে কৃষকের দুঃশ্চিন্তা ও খরচ

কাওসার আহমেদ বর্ষার জলে ভরে ওঠা চলনবিল একসময় ছিল জীবনের উচ্ছ্বাসে ভরা এক বিশাল জলরাশি। পানির বুক চিরে ছুটত নৌকা, জেলেদের জালে উঠত নানা প্রজাতির মাছ, আর বিলের উর্বর পলিমাটিতে দুলতো কৃষকের সোনালি ধানের স্বপ্ন। বর্ষায় বিলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন পর্যটকেরাও। তবে এবার সেই চেনা রূপ অনেকটাই বিবর্ণ। কচুরিপানার ঘন আস্তরণে […]

কচুরিপানার দখলে চলনবিল, নষ্ট হচ্ছে বিলের সৌন্দর্য, বাড়ছে কৃষকের দুঃশ্চিন্তা ও খরচ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৮

কাওসার আহমেদ

বর্ষার জলে ভরে ওঠা চলনবিল একসময় ছিল জীবনের উচ্ছ্বাসে ভরা এক বিশাল জলরাশি। পানির বুক চিরে ছুটত নৌকা, জেলেদের জালে উঠত নানা প্রজাতির মাছ, আর বিলের উর্বর পলিমাটিতে দুলতো কৃষকের সোনালি ধানের স্বপ্ন।

বর্ষায় বিলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন পর্যটকেরাও। তবে এবার সেই চেনা রূপ অনেকটাই বিবর্ণ। কচুরিপানার ঘন আস্তরণে ঢেকে গেছে বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও আবাদি জমি। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ ও নৌ চলাচল, নষ্ট হচ্ছে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পর্যটকেরাও আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারছেন না।

নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়ার ৬২ বর্গমাইলজুড়ে বিস্তৃত চলনবিলের বিলশা বিলের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমি কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়েছে। এতে আমন ধানসহ আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে ভরা বর্ষায় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কচুরিপানার আগ্রাসনে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার কৃষক। শুধু কৃষিই নয়, বিলের বুকে কচুরিপানার ঘন জট আটকে দিচ্ছে নৌ চলাচলের পথ। এতে ভোগান্তি বাড়ছে বিলপাড়ের মানুষের; সমস্যায় পড়ছেন মাঝি ও দিনমজুরেরা।

কচুরিপানায় ঢাকা বিল

সরেজমিনে দেখা যায়, চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও এত ঘন হয়ে আছে যে নিচে পানিও দেখা যাচ্ছে না। এতে আবাদি জমিতে প্রবেশ ও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কচুরিপানার জটে সংকুচিত হয়ে পড়েছে নৌপথ। মাঝিদের কচুরিপানা ঠেলে নৌকা চালাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য

বর্ষার স্রোতে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা খাল-বিল ও আশপাশের জলাশয় হয়ে চলনবিলের বিভিন্ন অংশে জমা হচ্ছে। তবে বিলে স্রোতের প্রভাব কম থাকায় সেগুলো সহজে বের হতে পারছে না। ফলে কোথাও কোথাও জমাট বেঁধে তৈরি হয়েছে ঘন সবুজের বিস্তীর্ণ আস্তরণ।

গুরুদাসপুরের খুবজীপুরের বিলশা, শ্রীপুর, পিপলা, বামনবাড়িয়া, মশিন্দার ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকা, নাদোসৈয়দপুর, বিলকাঠুর, বিলব্যাসপুর ও বিয়াঘাটের যোগেন্দ্রনগর, বিলহরীবাড়ী, হরদমাসহ সিংড়ার ডাহিয়া, ইতালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রুহাই, কুন্দইল, হান্ডিয়ালসহ অন্তত ৩০ গ্রামের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চল কচুরিপানার সবুজ চাদরে ঢাকা পড়েছে।

পানি নামলেও বাড়বে কৃষকের খরচ

পানি নেমে গেলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। কারণ, জমিতে জমে থাকা কচুরিপানা সরিয়ে চাষাবাদের উপযোগী করতে তাঁদের গুনতে হবে বাড়তি টাকা। কৃষকদের ভাষ্য, এক বিঘা জমি কচুরিপানামুক্ত করতে প্রয়োজন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক।

প্রতিজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। এতে শুধু কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। ফলে কচুরিপানা না সরালে সময়মতো আবাদ করা যাবে না, আবার সরাতে গেলেও বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হবে কৃষকদের।

বাড়তি এই ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। টাকা দিয়েও প্রয়োজনমতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক সময়মতো জমি পরিষ্কার করতে পারছেন না। কেউ কেউ ধারদেনা করে শ্রমিক নিয়ে কচুরিপানা সরানোর চেষ্টা করছেন।

বিলশা, যোগেন্দ্রনগর, বিলব্যাসপুর ও কুন্দইল গ্রামের কৃষক বরহান উদ্দিন, আব্দুল খালেক, হাসেম আলী ও খবির উদ্দিনসহ কয়েকজন বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি। এখন টাকা দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে জমি প্রস্তুত করতে গিয়ে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।

নৌ চলাচল ও পর্যটনের প্রভাব

কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পর্যটকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বর্ষায় চলনবিলের পানির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মানুষজন অনেক জায়গায় নৌকা নিয়ে বিলের ভেতরে যেতে পারছেন না। কচুরিপানায় ঢেকে গেছে বিলের পানির বড় অংশ। ফলে আগের মতো খোলা জলরাশি ও নৌভ্রমণের পরিবেশও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা বলছেন, চলনবিলের অন্যতম আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ জলরাশি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু কচুরিপানার ঘন আস্তরণে সেই সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এতে পর্যটকদের আগ্রহও কমছে।

কুন্দইল এলাকার মাঝি ময়েজ খাঁ বলেন, কচুরিপানার কারণে এখন নৌকা চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আগে সহজেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া যেত। এখন কচুরিপানা ঠেলে নৌকা চালাতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে এবং যাত্রীদেরও কষ্ট হয়। দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা দরকার।

চলনবিলের বিলশা এলাকা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; বর্ষায় এখানে নৌভ্রমণে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়।

জীববৈচিত্র্য নিয়েও শঙ্কা

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম আলী আককাছ বলেন, চলনবিল দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন এলাকা। কচুরিপানার বিস্তারে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যও হুমকিতে পড়ছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে বিলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, এবার বিলে পানির প্রবাহ কম থাকায় কচুরিপানার বিস্তার বেড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধ ও সুতি দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত কচুরিপানা সরিয়ে জমি চাষের উপযোগী করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি জানার পর কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।