সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কচুরিপানার দখলে চলনবিল, নষ্ট হচ্ছে বিলের সৌন্দর্য, বাড়ছে কৃষকের দুঃশ্চিন্তা ও খরচ

কাওসার আহমেদ বর্ষার জলে ভরে ওঠা চলনবিল একসময় ছিল জীবনের উচ্ছ্বাসে ভরা এক বিশাল জলরাশি। পানির বুক চিরে ছুটত নৌকা, জেলেদের জালে উঠত নানা প্রজাতির মাছ, আর বিলের উর্বর পলিমাটিতে দুলতো কৃষকের সোনালি ধানের স্বপ্ন। বর্ষায় বিলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন পর্যটকেরাও। তবে এবার সেই চেনা রূপ অনেকটাই বিবর্ণ। কচুরিপানার ঘন আস্তরণে […]

কচুরিপানার দখলে চলনবিল, নষ্ট হচ্ছে বিলের সৌন্দর্য, বাড়ছে কৃষকের দুঃশ্চিন্তা ও খরচ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৮

কাওসার আহমেদ

বর্ষার জলে ভরে ওঠা চলনবিল একসময় ছিল জীবনের উচ্ছ্বাসে ভরা এক বিশাল জলরাশি। পানির বুক চিরে ছুটত নৌকা, জেলেদের জালে উঠত নানা প্রজাতির মাছ, আর বিলের উর্বর পলিমাটিতে দুলতো কৃষকের সোনালি ধানের স্বপ্ন।

বর্ষায় বিলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন পর্যটকেরাও। তবে এবার সেই চেনা রূপ অনেকটাই বিবর্ণ। কচুরিপানার ঘন আস্তরণে ঢেকে গেছে বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও আবাদি জমি। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ ও নৌ চলাচল, নষ্ট হচ্ছে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পর্যটকেরাও আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারছেন না।

নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়ার ৬২ বর্গমাইলজুড়ে বিস্তৃত চলনবিলের বিলশা বিলের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমি কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়েছে। এতে আমন ধানসহ আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে ভরা বর্ষায় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কচুরিপানার আগ্রাসনে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার কৃষক। শুধু কৃষিই নয়, বিলের বুকে কচুরিপানার ঘন জট আটকে দিচ্ছে নৌ চলাচলের পথ। এতে ভোগান্তি বাড়ছে বিলপাড়ের মানুষের; সমস্যায় পড়ছেন মাঝি ও দিনমজুরেরা।

কচুরিপানায় ঢাকা বিল

সরেজমিনে দেখা যায়, চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও এত ঘন হয়ে আছে যে নিচে পানিও দেখা যাচ্ছে না। এতে আবাদি জমিতে প্রবেশ ও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কচুরিপানার জটে সংকুচিত হয়ে পড়েছে নৌপথ। মাঝিদের কচুরিপানা ঠেলে নৌকা চালাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য

বর্ষার স্রোতে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা খাল-বিল ও আশপাশের জলাশয় হয়ে চলনবিলের বিভিন্ন অংশে জমা হচ্ছে। তবে বিলে স্রোতের প্রভাব কম থাকায় সেগুলো সহজে বের হতে পারছে না। ফলে কোথাও কোথাও জমাট বেঁধে তৈরি হয়েছে ঘন সবুজের বিস্তীর্ণ আস্তরণ।

গুরুদাসপুরের খুবজীপুরের বিলশা, শ্রীপুর, পিপলা, বামনবাড়িয়া, মশিন্দার ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকা, নাদোসৈয়দপুর, বিলকাঠুর, বিলব্যাসপুর ও বিয়াঘাটের যোগেন্দ্রনগর, বিলহরীবাড়ী, হরদমাসহ সিংড়ার ডাহিয়া, ইতালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রুহাই, কুন্দইল, হান্ডিয়ালসহ অন্তত ৩০ গ্রামের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চল কচুরিপানার সবুজ চাদরে ঢাকা পড়েছে।

পানি নামলেও বাড়বে কৃষকের খরচ

পানি নেমে গেলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। কারণ, জমিতে জমে থাকা কচুরিপানা সরিয়ে চাষাবাদের উপযোগী করতে তাঁদের গুনতে হবে বাড়তি টাকা। কৃষকদের ভাষ্য, এক বিঘা জমি কচুরিপানামুক্ত করতে প্রয়োজন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক।

প্রতিজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। এতে শুধু কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। ফলে কচুরিপানা না সরালে সময়মতো আবাদ করা যাবে না, আবার সরাতে গেলেও বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হবে কৃষকদের।

বাড়তি এই ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। টাকা দিয়েও প্রয়োজনমতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক সময়মতো জমি পরিষ্কার করতে পারছেন না। কেউ কেউ ধারদেনা করে শ্রমিক নিয়ে কচুরিপানা সরানোর চেষ্টা করছেন।

বিলশা, যোগেন্দ্রনগর, বিলব্যাসপুর ও কুন্দইল গ্রামের কৃষক বরহান উদ্দিন, আব্দুল খালেক, হাসেম আলী ও খবির উদ্দিনসহ কয়েকজন বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি। এখন টাকা দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে জমি প্রস্তুত করতে গিয়ে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।

নৌ চলাচল ও পর্যটনের প্রভাব

কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পর্যটকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বর্ষায় চলনবিলের পানির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মানুষজন অনেক জায়গায় নৌকা নিয়ে বিলের ভেতরে যেতে পারছেন না। কচুরিপানায় ঢেকে গেছে বিলের পানির বড় অংশ। ফলে আগের মতো খোলা জলরাশি ও নৌভ্রমণের পরিবেশও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা বলছেন, চলনবিলের অন্যতম আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ জলরাশি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু কচুরিপানার ঘন আস্তরণে সেই সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এতে পর্যটকদের আগ্রহও কমছে।

কুন্দইল এলাকার মাঝি ময়েজ খাঁ বলেন, কচুরিপানার কারণে এখন নৌকা চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আগে সহজেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া যেত। এখন কচুরিপানা ঠেলে নৌকা চালাতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে এবং যাত্রীদেরও কষ্ট হয়। দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা দরকার।

চলনবিলের বিলশা এলাকা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; বর্ষায় এখানে নৌভ্রমণে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়।

জীববৈচিত্র্য নিয়েও শঙ্কা

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম আলী আককাছ বলেন, চলনবিল দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন এলাকা। কচুরিপানার বিস্তারে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যও হুমকিতে পড়ছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে বিলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, এবার বিলে পানির প্রবাহ কম থাকায় কচুরিপানার বিস্তার বেড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধ ও সুতি দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত কচুরিপানা সরিয়ে জমি চাষের উপযোগী করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি জানার পর কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। […]

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ১০:২৮

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে কালু, পারভেজ ও তাদের কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। প্রথমে কালু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর র‌্যাব-৪-এর আভিযানিক দল জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।