পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানকে কারাগার থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হৃদরোগ ও চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ বিশেষায়িত চিকিৎসক দলের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, চিকিৎসকেরা ইমরান খানকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন। এ সময় তার বোন উজমা খানও হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
ইমরানকে প্রথমে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কর্মীদের উপস্থিতির কারণে সেখানে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
এর আগে শিফা হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাসপাতালটির আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানান, ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার আদালত কর্তৃপক্ষকে দুই দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও রাখার কথা ছিল।
এর আগে সোমবার আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এতে ১০ আগস্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি মেডিকেল বোর্ডের করা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে ইমরানের রক্তচাপের ওঠানামা এবং পরিবারের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের কারণে তার উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করলেও বৃহস্পতিবার ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
গত এক বছর ধরে ইমরানের পরিবার ও দল তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আসছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে তারা বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারির পর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবিতে করা দুটি আবেদনও আদালত খারিজ করেছিলেন।
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান খান। পরের বছর আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ইমরান অস্বীকার করে আসছেন।
পরবর্তীতে সাবেক এই ক্রিকেটার ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি আরও কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। তারাও অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?