এক যুগেরও বেশি সময় আগে পুরান ঢাকার আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আসরের নামাজের পর পটুয়াখালী শহরের করভবন জামে মসজিদের সামনে তাঁর মা’র জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় শাকিলকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে তাঁকেও জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।
জানাজাকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের আবহ। দীর্ঘদিন পর মায়ের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে ছোট ছেলেকে পাশে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শাকিলের বড় ভাই মো. শাহিন বলেন, “আমার ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল, তাদের অনেকেই জামিন পেয়েছেন। কিন্তু আমার ভাই জামিন পায়নি। আমরা একমাত্র বিএনপি পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হয়েছি” বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার মা আজ আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো মাকে দেখতে এবং তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আমার ছোট ভাই এসেছে। মায়ের মৃত্যুর সময় ছেলেকে কাছে পাওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের এবং আবেগের বিষয়।”
জানাজা শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী শাকিল আবার কারাগারে ফিরে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকায় হরতাল-অবরোধ চলাকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিলসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর নাম আসে।
তৎকালীন তদন্ত ও আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে শাকিলকে বিশ্বজিৎ দাসের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলায় জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলাটি দেশের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পায়।