নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দায় কবরস্থানের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের জেরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী সহ অন্তত ১২০জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে ৬জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শুক্রবার সকালে উপজেলার আমঘর ও পানেশ্বর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমগড়া এবং পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার মধ্যে ১একর ৮০ শতক আয়তনের একটি প্রাচীন গোরস্থান রয়েছে। এটির মালিকানা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধ মীমাংসা করতে ১৫দিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক হয়।
আজ সকালে আমগড়া গ্রামের কিছু লোক গোরস্থানের রাস্তার পাশের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। পানেশ্বরপাড়া গ্রামের লোকজন নির্মাণ সামগ্রী ছুড়ে ফেলে দিয়ে দোকান ঘর ভাঙচুর করে। পরে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বরপাড়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রায় ৫০-৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
হামলাকারীদের তাণ্ডব থেকে বাদ যায়নি বিয়ের বাড়ির গেইট এবং গরুর খামার। পরে দুই গ্রামবাসী এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল পানেশ্বর পাড়া গ্রামেই ৫৪জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি আহতদের চিকিৎসা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাইভেট ক্লিনিকে দেওয়া হচ্ছে।
পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া জানান, কবরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা হেফাজত করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মাটি কাটিয়েছি। ডেপুটি স্পিকার এক লক্ষ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন দেয়াল ও পিলারের জন্য।
আমগড়ার লোকজন জোরপূর্বক সেখানে দোকান করতে চায়। আজ সকালে হিরা মিয়া, হোসেন মিয়া, হযরত, টিটু, মওলা, মোশাররফ ও কামাল পাশার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। কবরস্থানের সঠিক দলিল তাদের নামেই রয়েছে এবং তারা চান প্রশাসন যেন দলিলের ভিত্তিতে এর সুষ্ঠু সমাধান করেন।
তবে আমগড়া এলাকার লোকজনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. এমএমএস মাটি জানান, শুক্রবার ১টার দিকে সংঘর্ষে আহত রোগীরা চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।