জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণ এবং আমদানিনির্ভর করার উদ্যোগ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণকারী রাষ্ট্রীয় ছয়টি কোম্পানি বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে, যা উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এলএনজিনির্ভর নীতির কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের ভাষ্য, গত এক দশকে দেশে এলএনজির ব্যবহার প্রায় ৬-৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি।
মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এখনো অনিষ্পন্ন। এমন পরিস্থিতিতে একটি অনিশ্চিত প্রতিবেশী দেশের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা রাষ্ট্রীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এখন একইভাবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাত বেসরকারিকরণের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করা এবং বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের কার্যকর পথ।
অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।