মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। শেখ হাসিনার সরকারকে কীভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে তা ঠিক হয়েছিল এ দিনেই। চূড়ান্ত বিজয়ের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত। দিনটি ছিল কারফিউ, গুলি আর রক্তে রাঙা। রাস্তায় ছাত্র-জনতা, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলন চলে। তীব্র ক্ষোভ আর […]

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক

ডেস্ক রিপোর্ট

০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। শেখ হাসিনার সরকারকে কীভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে তা ঠিক হয়েছিল এ দিনেই। চূড়ান্ত বিজয়ের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত। দিনটি ছিল কারফিউ, গুলি আর রক্তে রাঙা। রাস্তায় ছাত্র-জনতা, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলন চলে। তীব্র ক্ষোভ আর বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ। রাজধানী থেকে মফস্সল সর্বত্রই এক দাবির প্রতিধ্বনি ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।’ দেশ জুড়ে অসহযোগ আন্দোলনে বন্ধ ছিল দোকানপাট ও যান চলাচল।

পুলিশের পাশাপাশি এদিন মাঠে নামে আওয়ামী লীগের বাহিনীও। মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। বন্ধ ছিল ফেসবুক—হোয়াটসঅ্যাপও। দিনভর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলোর ঘটনায় সারা দেশে নিহত হন ৯৮ জন। চারদিকে নিহত পরিবারগুলোর আহাজারি যেন সেদিন কাঁপিয়ে দিয়েছিল ক্ষমতার মসনদ। এমন অবস্থার মধ্যে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তী সময় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন সর্বমহলের মানুষ।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের গণজমায়েতে তত্কালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন মাঝখানে দুই দিনের (৪ ও ৫ আগস্ট) আলটিমেটাম দেয় সরকারকে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। কিন্তু ৪ আগস্ট ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং অনেক প্রাণহানি ঘটে। এতে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে এবং প্রতিবাদ জানায়। কোথাও কোথাও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়ায়। ফলে পরিস্থিতি পালটে যায়। তবে রাত ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন—পরশু নয়, আগামীকালই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি। এর পর আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলমও ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা দেন—পরশু নয়, কালকেই ‘লং মার্চ টু ঢাকা!’ এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেন, আগামীকালই ‘মার্চ টু ঢাকা’। ইতিহাসের সাক্ষী ও চূড়ান্ত লড়াইয়ে শামিল হতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করুন এখনই।’

এদিকে সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, বাংলাদেশে চলমান ‘বেদনাদায়ক’ সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করতে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের প্রধান ফলকার তুর্ক। তিনি সেনাপ্রধানের উদ্দেশে একটি চিঠিও লেখেন। যে যাই বলুক না কেন—চূড়ান্ত বিজয়ের টার্নিং পয়েন্ট ছিল এই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত। কিন্তু কেন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছিল? এখন পর্যন্ত তা কেউ জানতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সমন্বয়ক, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসলে সেই রহস্যটা কী ছিল।

৩ আগস্ট যখন ঘোষণা করা হয়, ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি। ঠিক তখন থেকেই সরকার চাপে পড়ে যায়। কর্মসূচি নস্যাত্ করতে সব ধরনের পরিকল্পনা শুরু করে। চার আগস্ট গণভবনে রাতভর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সব জেলা থেকে পুলিশ ফোর্স ঢাকায় আনা হবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করবে তার একটি নকশা তৈরি করা হয়। আকাশে বিমান কীভাবে কাজ করবে তাও পরিকল্পনায় আনা হয়। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি বাইরের নেতারা এসে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে তার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বিশেষ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এসে যাতে‌ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে থেকে ছাত্র-জনতাকে মোকাবিলা করতে পারে তাও চূড়ান্ত করা হয়। সরকারের মূল পরিকল্পনা ছিল, যে কোনো মূল্যে ঢাকা সামাল দিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি টের পেয়ে যায় প্রশাসনে থাকা সরকারবিরোধী কর্মকর্তারা। তারা বিষয়টি আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের জানিয়ে দেয়। তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনতে হবে। এতে সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা নস্যাত্ হবে। কথা অনুযায়ী কাজ। এর পর ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট ঘোষণা করা হয়।

৪ আগস্ট রাতে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে কেউ কেউ দ্বিধাবিভক্তির খবর ছড়ায়। তাদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল। এ বিষয়ে তত্কালীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এটা ছড়িয়ে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সমন্বয়কদের নামে এসব ছড়ালে সাংবাদিক ও পাবলিক বিশ্বাস করবে না। জনগণও বিভক্ত হয়ে যাবে। তখন আন্দোলন সফল হবে না। তাছাড়া কিছু সাংবাদিকও (যারা সরকারকে খুবই পছন্দ করতেন) রয়েছেন যারা এই দ্বিধাবিভক্তিতে জড়িত ছিলেন।’

এদিন সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। সড়কে অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা ও উপজেলা সদরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবত্ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরদিন ৫ আগস্ট থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কারফিউয়ের মধ্যে সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনের আলোকে তার প্রতিশ্রুত দায়িত্ব পালন করবে। গণভবনে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বৈঠক শেষে নৈরাজ্যবাদীদের দমন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন যারা নাশকতা করছে, তারা কেউই ছাত্র নয়; তারা সন্ত্রাসী।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘জঙ্গি হামলা’ হচ্ছে জানিয়ে সতর্ক করে সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সবাইকে নিরাপদে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জঙ্গি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এদিন আবারও বন্ধ করা হয় মোবাইল ইন্টারনেট। গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুর ১২টার পর সরকারি একটি সংস্থার নির্দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়। সেই সঙ্গে মেটার প্ল্যাটফরম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকারি একটি সংস্থা। দেশের অন্তত ৩৮টি জেলায় জনপ্রতিনিধিদের বাসা, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও থানাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল সারা দেশ থেকে। গণপরিবহন চলাচল ছিল না বললেই চলে। দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ছেড়ে যায়নি। অনেকটা রাজধানীর মতোই চিত্র ছিল দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে। সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিরাজগঞ্জ। সংঘর্ষ ও মারধরে ১৩ পুলিশ সদস্যসহ ২৩ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে রাজধানীর রাওয়া ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সামরিক বাহিনীকে ছাউনিতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করে। এতে শিক্ষক, বিচারক, আইনজীবী ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানানো হয়। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে ঘোষণা আসে সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সবার ধারণা ছিল ২০০৭ সালের মতো এবারও সেনাশাসন আসছে। তবে পরবর্তী সময়ে সেনাকুঞ্জে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সব রাজনৈতিক নেতাদের ডেকে আলাপ-আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়। যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় ৮ আগস্ট।

এর আগে ৫ আগস্ট সকালের দিকে সেনাপ্রধানের ভাষণের কথা শুনে উত্তরা দিয়ে জনস্রোত প্রবেশ করতে থাকে ঢাকায়। যাত্রাবাড়ী দিয়েও লাখো জনতা স্রোতের মতো প্রবেশ করে। শেখ হাসিনা ভারতে গেছে এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকাবাসী সড়কে নেমে আসে। আবালবৃদ্ধবণিতা অলিগলি আর সড়কে উল্লাসে মাতে। খুশিতে উদ্যাপন করে ১৫ বছরের অপশাসনের গ্লানি। সবাই মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে উড়তে থাকে। কেউ গণভবনে গিয়ে সিজদায় নত হয়। স্বৈরাচার পালানোর খুশিতে গণভবনের সম্পদ যেন অনেকে নিজের করে নেয়। যে যা পারে তাই স্মৃতি হিসেবে সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য অনেকেই গণভবনের অনেক কিছু ফেরত দিয়ে গেছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তবে ঝরে যায় সহস্রাধিক প্রাণ। আহত হন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। এই আন্দোলন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই। আর শেষ হয় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন সরকার পতনের মধ্য দিয়ে। যা ছিল দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।