জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য তাদের দল প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আন্দোলনের ‘এক দফা’ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ হলেও ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার’ অবসান ঘটেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনে যারা একসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন, পরবর্তীতে তারাই সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই বছরে দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তার ভাষায়, “পরিবর্তন শুধু একটাই হয়েছে—তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের দলীয়করণ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে আসেন, আর তারেক রহমান যদি দিল্লির সঙ্গে সমঝোতা করে সেই ব্যবস্থা করেন, তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি। বিমানবন্দর থেকেই তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে আমরা রাজপথে থাকব।”
তিনি আরও বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি; বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়াই ছিল তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম, শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগমসহ দলটির নেতারা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারাও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দেশে প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আসায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।