প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে কোনোভাবেই দলের স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তার মতে, রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভূমিকা আলাদা থাকা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং জনগণের কাছে সেসব উদ্যোগ তুলে ধরা। তবে দল যদি সরকারের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়, তাহলে সরকার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি দলেরও অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
দলের সাংগঠনিক অবস্থা, তৃণমূলের কোন্দল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, শুরুতে তারেক রহমান স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। পরে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বজায় রাখা, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে আদর্শ বিসর্জন দিলে দল তার ভিত্তি হারাবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল ও সরকারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সম্পর্ক হওয়া উচিত রেললাইনের মতো—দুটি পাশাপাশি চলবে, কিন্তু একে অপরকে অতিক্রম করবে না। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং দলও সুসংগঠিত থাকবে।
বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ প্রশাসনিক তদবির, টেন্ডার, নিয়োগ-বদলি কিংবা বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। এছাড়া হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট দখলের মতো কর্মকাণ্ডেও কিছু নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের পর জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম বা অপকর্মে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব প্রথমে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দেওয়া হবে। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি জেলা, পরে বিভাগীয় পর্যায়ে যাবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে একক প্রার্থী নির্ধারণে আগেভাগেই সমন্বয় গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনোভাবেই অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থার মতো হবে না। জনগণের মতামতই নির্বাচনের প্রধান ভিত্তি হবে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বৈঠকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দূর করে সাংগঠনিক ঐক্য জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান জানান, এটি ছিল একটি সাংগঠনিক বৈঠক। এতে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।