বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ গত মার্চের শুরুতেই শেষ হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো সময় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে চলছে নানা সমীকরণ, আলোচনা ও তৎপরতা।
২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন।
সভাপতি পদে সম্ভাব্যদের মধ্যে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে আনোয়ার পারভেজ ও শ্যামল মালুমের নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বর্তমান সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, এজাজুল কবির রুয়েল, খোরশেদ আলম সোহেল ও মঞ্জুরুল আলম রিয়াদের নাম আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নামও সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদ আওয়াল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দুও আলোচনায় রয়েছেন।
পদপ্রত্যাশী নেতাদের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তারা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বই নেবে এবং সেই সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নেবেন।
নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, আগামী দিনের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নেতাদের সাংগঠনিক ভূমিকা, অতীত কর্মকাণ্ড ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে নেতৃত্বে স্থান না পান, সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদগুলোর নাম একসঙ্গে ঘোষণা করা হতে পারে।