বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’

আজ ১৬ জুলাই, ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। পুলিশের গুলির সামনে আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে কোটা […]

আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’

আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’

ডেস্ক রিপোর্ট

১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩

আজ ১৬ জুলাই, ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন।

পুলিশের গুলির সামনে আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে কোটা সংস্কারের আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানানো এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আন্দোলনে আহত সেই সব সাহসী তরুণ-তরুণী ও যুবপ্রজন্মকে, যাঁদের অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি, যাঁরা আপনজন হারানোর গভীর শোক বুকে ধারণ করেও অসীম ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে চলেছেন।”

জুলাই যোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ও অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।”

তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মদান স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের শক্তির উৎস এবং সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ।

পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।”

তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের দৃশ্যটি কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।”

তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই দেশ বর্তমানে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।”

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।