আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিদেশে অবস্থান করে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তারা দেশের সীমান্তে প্রবেশ করলেই আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হবেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মধ্যে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে হুংকার দেওয়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে আত্মসমর্পণ করবেন। আমি স্পিকারের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাই, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তারা গ্রেপ্তার হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি হুংকারের জবাবে আমাদের আরও সংঘবদ্ধ হতে হবে এবং দেশের স্বার্থে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। এ দেশে আর কখনোই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।”
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ তিনটি মামলার রায় হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে প্রসিকিউশন ১০৯টি মামলা বাছাই করেছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে এবং ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলার রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন রাজসাক্ষীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৬টি মামলা বিচারাধীন এবং চারটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।
তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়েও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক কৌশলের পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং অতীতের জোট রাজনীতির অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন।