৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা এই নেতা রোববার (১২ জুলাই) রাজধানী দোহায় দাফন হন।
রোববার সকালে তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পরে মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহহাব মসজিদে অনাড়ম্বর পরিবেশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। পরে বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বহন করে মসজিদ থেকে বের করেন। এরপর দোহার উত্তরে লুসাইল কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আল জাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি জানান, পুরো দাফন অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত সাদামাটা এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এই সরল আয়োজন শেখ হামাদের ব্যক্তিজীবনেরও প্রতিফলন, কারণ তিনি আড়ম্বরের চেয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ হামাদ। তার নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং ২০০৬ সালের মধ্যে দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারকে পরিণত হয়।
তার শাসনামলে কাতার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির ভূমিকা জোরদার হয়। এছাড়া ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচিতি লাভ করে।
শেখ হামাদের উদ্যোগেই ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা নিউজ চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়।
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের মহাপরিচালক শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি শোক প্রকাশ করে বলেন, শেখ হামাদই ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা-দর্শনের মূল রূপকার। তার দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব আল জাজিরাকে বিশ্বজুড়ে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?