ইবি প্রতিনিধি:
ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, আক্রোশ ও ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে নবগঠিত কমিটি থেকে একজন সদস্যকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে। রোববার এ বিষয়ে সংগঠনের মডারেটরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংগঠনটির সদস্য মিশুক শাহরিয়ার।
লিখিত অভিযোগে মিশুক শাহরিয়ার দাবি করেন, সভাপতি ইয়াছিন আলী ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ এনে তাকে হল কমিটির দায়িত্ব ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন।
এছাড়া, শিবির আয়োজিত একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করায় তাকে অযৌক্তিকভাবে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইয়াছিন আলী জুনিয়র বিতার্কিকদের কাছে তার সম্পর্কে কুৎসা রটিয়েছেন, হল প্রভোস্টের কাছে অসত্য অভিযোগ দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন এবং বহিরাগত বিতর্ক সংগঠনের সদস্যদের কাছেও তার সম্পর্কে মিথ্যা ও অপ্রীতিকর তথ্য দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত আক্রোশ, প্রতিহিংসা এবং ‘শিবির’ ট্যাগ ব্যবহার করে তাকে ইবি ডিবেটিং সোসাইটির নবগঠিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ মিশুক শাহরিয়ারের।
অভিযোগপত্রে মিশুক বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির নবগঠিত কমিটি থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলাম।
তবে ভোটের দিন সকালে আমার পরিবর্তে অন্য একজন সদস্যকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আমার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে কমিটিতে রাখবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন ইয়াছিন।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, আমি কোথায় যাই, কী করি, কার সঙ্গে মেলামেশা করি, ফেসবুকে কী পোস্ট করি বা কার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করি—এসব বিষয়ে ইয়াছিন আলীকে অবহিত না করায় বিভিন্ন সময় আমাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।
এছাড়া শিবির আয়োজিত একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় ইয়াছিন আলী আমার টিমমেট মুশফিককে একাধিকবার ফোন করে প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসার জন্য চাপ দেন। এমনকি সরে না আসলে তার বিতর্কজীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দেন।
মিশুকের অভিযোগ, আমি ডিবেটিং সোসাইটি ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নির্বাচনে অংশ নিই। নির্বাচনকালীন উপদেষ্টামণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের পরবর্তী কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে আমাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। অপরদিকে, হল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্য নন—এমন একজনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইইউডিএসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি কোনো হল কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিন্তু ইয়াছিন আলী নিজেই লালন শাহ হল কমিটির সভাপতি হতে যাচ্ছেন।
এতে দ্বিমত করার হল প্রভোস্টের কাছে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য প্রদান করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। এছাড়া তিনি বিতর্ক কক্ষের তালা পরিবর্তন করে বিতর্ক কার্যক্রম স্থগিত রাখার অভিযোগও করেছেন মিশুক।
আমার সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও মানহানিরও বিচার চাই। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন উপদেষ্টামণ্ডলীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইবি ডিবেটিং সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ইয়াছিন আলী বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা তাকে শিবির সংশ্লিষ্টতার কারনে শোকজ করিনি৷ তিনি আইইউডিএস এর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি না নিয়ে শিবির আয়োজিত একটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন করেছিল।
যা আমাদের সংগঠনিক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারতো। একারণে তাকে সকলের সিদ্ধান্তক্রমে শোকজ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ইবি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মুহাঃ কামরুজ্জামান বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”