জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনগণভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা ও থানা সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অনুষ্ঠিত মহড়া পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য ও মহড়ায় অংশগ্রহণকারী আনসার সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে মহড়ার অগ্রগতি, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন।
মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃহৎ পরিসরের গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আনসার বাহিনীর সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের যৌথ মহড়া জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক আস্থা এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মহড়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং অংশগ্রহণকারী সদস্যদের পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।
আনসার সদর দপ্তর জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ গত ৫ জুলাই শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব ডিভিশনে একযোগে এ মহড়া চলবে।
আনসার সদর দপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, মহড়ায় অংশগ্রহণের আগে সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের সদস্যদের প্রচলিত ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিষয়ে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অন-দ্য-জব ট্রেনিং (ওজেটি) দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে রেইড, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপন এবং বিভিন্ন মাইনর অপারেশনের বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তার ভাষ্য, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মহড়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।
আনসার বাহিনীর মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে জাতীয় প্রতিরক্ষায় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার যে ধারণা, বর্তমান উদ্যোগ তারই বাস্তব প্রতিফলন। একই সঙ্গে বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে উপজেলা ও থানা সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনগুলোকে নতুনভাবে সংগঠিত করা হয়েছে। শিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ শুধু আন্তঃবাহিনী সমন্বয়কে আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাহিনীর সক্ষমতা, প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অবদানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মহড়া পরিদর্শনের সময় ঢাকা মহানগর আনসারের পরিচালক আসাদুজ্জামান গণীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।