যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং দামের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানে আঘাত করে, তখনই তেলের দাম বেড়ে যায়। বাস্তবেও তেমনটাই ঘটেছে। গত বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৯ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এদিন প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত তেলের মজুত ৬২ লাখ ব্যারেল কমে ৩১৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৩১ কোটি ৯৫ লাখ) ব্যারেলে নেমেছে। রিগান প্রশাসনের পর এটিই তেলের সর্বনিম্ন মজুত। অথচ এই রিজার্ভের ধারণক্ষমতা ৭১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৭১ কোটি ৩৫ লাখ) ব্যারেল।
মজুতের এই পতন যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক তেল অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে বিশ্ব অর্থনীতি যেন অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে না পড়ে এবং দাম যেন ভয়াবহ পর্যায়ে না পৌঁছায়, সে জন্য এই রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
তবে কৌশলগত এই মজুত পর্যাপ্ত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি আর্থিক বাজারগুলোকে সংকেত দেয় যে, বিশ্ব তেল অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো হাতিয়ার ওয়াশিংটনের হাতে রয়েছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই কৌশলগত মজুত বর্তমানের চেয়ে আর বেশি কমতে দিতে পারে না। আর তেলের এই কমতি মজুত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধের সিদ্ধান্ত বা বিকল্পগুলোকে সীমিত করে দিতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?