আবু তাহের, জাককানইবি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন উৎসবের আমেজ। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে শিক্ষার্থীরা মিছিল, পতাকা প্রদর্শন, জার্সি পরিধান এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিভিন্ন আয়োজন ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলা নিয়ে আলোচনা, ভবিষ্যদ্বাণী এবং প্রিয় দলের জয়-পরাজয় নিয়ে চলছে প্রাণবন্ত বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের সমর্থনের কথা জানাচ্ছেন তারা।
কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে ঘুরছেন, আবার কেউ ক্যাম্পাসে পতাকা টানিয়ে বিশ্বকাপের আবহ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে টিএসসিতে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে টিএসসি যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে।
এছাড়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদ্রোহী হল প্রশাসনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো বড় পর্দায় দেখার ব্যবস্থা করেছে। এতে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রেখে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনকে আরও সুসংগঠিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব ও ব্রাজিল ফ্যান ক্লাব আগামী চার বছরের জন্য বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিভাগভিত্তিক কমিটি ঘোষণা করেছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের এই সংগঠিত কার্যক্রম ক্যাম্পাসের ফুটবল উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ কে ঘিরে ব্রাজিল সমর্থকরা একেছেন নেইমারের গ্রাফিতি ও করেছেন আনন্দ মিছিল।
ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ মিছিলের পর প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ আর্জেনটিনার পতাকা নিয়ে পাল্টা শোডাউন করেছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছেন কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে তাদের স্লোগান, গান ও উচ্ছ্বাস ক্যাম্পাসে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি খেলা নয়, এটি তাদের কাছে মিলনমেলা ও আনন্দের উপলক্ষ। একসঙ্গে খেলা উপভোগের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে আগামী দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে এই উৎসবের আমেজ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রাজিল সমর্থক ইশরাত জান্নাত বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হলে চারদিকে ফুটবল নিয়ে আলোচনা, বন্ধুদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয় দলের জার্সি পরা মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, তাই অনুভূতি ও প্রত্যাশা আরও বেশি।
ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ও আক্রমণাত্মক স্টাইল আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। এবারও আশা করি ব্রাজিল ভালো খেলবে এবং বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেবে।
আর্জেনটিনা সমর্থক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশাদ আল সাইম বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি আমার অনেক আশা রয়েছে। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্টিনেজদের নিয়ে দলটি শক্তিশালী হলেও মেসির উত্তরসূরি তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ।
ছাত্রজীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে হয়তো এটাই বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উদযাপনের শেষ সুযোগ। তাই চাই, প্রিয় দলের সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপের আনন্দ সবাই সুস্থ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপভোগ করুক। আর একজন ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশি হিসেবে স্বপ্ন দেখি, একদিন লাল-সবুজের জার্সি গায়েও বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে দেখব বাংলাদেশকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্পেন সমর্থক সাহাবির হোসেন সাব্বির বলেন, বিশ্বকাপের সময় ক্যাম্পাসের পরিবেশ একেবারে বদলে যায়। রাত জেগে খেলা দেখার পরও সকালে সবাই ক্লাসে আসে শুধু ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করার জন্য।
আমি একজন স্পেনের সমর্থক। ২০১০ সালের ট্রফি জয়ের পর দীর্ঘদিন স্পেনের বিশ্বকাপ পথচলা কিছুটা মলিন ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ইউরো জয় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে মাঝমাঠের রদ্রি, আর আক্রমণভাগের লামিন ইয়ামাল ও গতিময় নিকো উইলিয়ামসের হাত ধরে এই দলটা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা।