পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলা গোলখালী ইউনিয়নের চর সুহরী গ্রাম থেকে মার্জিয়া (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ। নিহত মার্জিয়া একই ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে।
এ ঘটনায় ৫ জুন (শুক্রবার) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায় উপজেলার চর সুহুরী গ্রামে তার স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে একই এলাকার রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে মার্জিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মার্জিয়াকে মানসিক চাপে রাখা হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করতেন। মার্জিয়া স্বামীকে মাদকাসক্তি ও বন্ধু লিমনের সঙ্গে মেলামেশা থেকে বিরত থাকতে বললে রাসেল ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মার্জিয়াকে অপমানজনক কথাবার্তা বলতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের বাড়িতে আসেন। এ নিয়ে মার্জিয়া প্রশ্ন করলে রাসেল তাকে গালাগাল করেন। পরে রাসেল ও লিমন বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া বাঁধা দিলে আবারও তাকে অপমান করা হয়।
বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালে তারাও তাকে তিরস্কার করেন। এসব ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মার্জিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় দায়েরকৃত মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), তার বন্ধু লিমন (২৫), বাবা বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও মা মাসুমা বেগম (৪৪)-কে আসামি করা হয়েছে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”