নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর এলাকার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লার একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। সেই একঘরেই বসবাস দিনমজুর ও তাঁর স্ত্রী –এর। ঘরটি নিজেদেরও নয়, অন্যের জায়গায় কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে তাদের। পরিবারের দুই মেয়ে মুন্নি খাতুন (১৮) ও মোহনা খাতুন (৮) জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। ঠিকমতো হাঁটতে কিংবা কথাও বলতে পারে না তারা।
অভাব-অনটনের সেই পরিবারটির খোঁজ নিতে ঈদ উপহার হাতে রাতে সেখানে যান গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) । গত রোববার রাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, দুই মেয়েকে দেখাশোনা করতে গিয়ে নিয়মিত কাজে যেতে পারেন না মুক্তার হোসেন। কখনো কখনো দুই সন্তানকে সামলাতে আলাদা স্থানে বেঁধে রাখতে হয় পরিবারটিকে। অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি বাবা-মা।
শাপলা খাতুন বলেন, “আমরা অনেক অসহায়। দুই প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আপনার মতো বড় কর্মকর্তা আমাদের বাড়িতে এসেছেন, এটাই অনেক বড় পাওয়া। যদি একটা থাকার জায়গা পেতাম, তাহলে আরও ভালো হতো।”
ইউএনও বলেন, সমাজে এখনও অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও এ ধরনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।