মেহেদী হাসান রাতুল ( সিলেট),
৫টি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চিত অর্থ ও মুনাফা ফেরতের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। ব্যাংকের মুনাফা কমিয়ে দেওয়ার (হেয়ারকাট) সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান তারা।
সোমবার বেলা ১১টায় সিলেট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার সামনে আমানতকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেভিংস ও এফডিআরে জমা রাখা অর্থ মুনাফাসহ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। এতে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে ৯ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ, মুনাফার হার, বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত বিস্তারিত স্কিম ঘোষণার আশ্বাস দেয়।
তবে অনুমোদনের প্রায় ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রাহকদের অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি করেছেন আমানতকারীরা। তাদের ভাষ্য, সারা দেশে ধারাবাহিক আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান মেলেনি।
আজ সিলেটে বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই তাদের এফডিআরের অর্থ মুনাফাসহ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দ্রুত এ সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্বাচিত সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তারা।