মুশফিক হাওলাদার (ভোলা):
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদ এর আসন্ন কমিটিতে তৃনমূলে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সংগঠনের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রফিক। দীর্ঘ রাজনীতির মাঠে তার ত্যাগ, রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাজীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ রফিকুল ইসলাম রফিক ১৯৮৪ সালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রফিক। তাঁর পিতা আলহাজ্ব আব্দুল মালেক হাওলাদার ছিলেন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী এবং মাতা রাহিমা বেগম ছিলেন ধর্মভীরু আদর্শবান নারী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন তুখোড় মেধাবী । ১৯৯৩ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে এবং ১৯৯৬ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে তিনি শিক্ষাজীবনের শুরুতেই সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে কলেজ জীবনে প্রবেশ করেই ১৯৯৯ সালে কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। যোগদানের দ্বিতীয় দিনেই ছাত্রদলের একটি মিছিলে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। কিন্তু সেই নির্যাতন তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং রাজনীতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন রফিক। ২০০১-২০০২ সেশনে তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের ১ম বর্ষ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে বিভাগীয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন।
দেশের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে অবৈধ ১/১১ সরকারের আমলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান গ্রেফতার হলে প্রতিবাদী ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করতে গিয়ে তিনিও গ্রেফতার হন। দেশদ্রোহী মামলায় দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয় তাঁকে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের হরতাল চলাকালে মিছিল শেষে ডিবি পুলিশের হাতে পুনরায় গ্রেফতার হন তিনি। তিনদিন গুম অবস্থায় রেখে অমানুষিক নির্যাতনের পর একাধিক মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। রাজনৈতিক জীবনে মোট সাতবার গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৬ মাস ২০ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি। তবুও আদর্শ থেকে একচুলও সরে যাননি।
বিএনপি ও ছাত্রদলের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে তাঁর নেতৃত্বগুণ বিশেষভাবে প্রকাশ পায়। ২০১৬ সালে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ খালেদা জিয়া-এর নামে নির্মিত বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার নামফলক অপসারণ করলে তিনি প্রতিবাদে সোচ্চার হন। প্রশাসনের হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মিছিল, সভা ও ছাত্রধর্মঘটের কর্মসূচি পালিত হয়। ঘোষিত ২০ দিনের আল্টিমেটামের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রশাসন বাধ্য হয়। তাঁর এই সাহসী নেতৃত্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বয়সসীমাজনিত কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে স্থান না পেলেও তিনি কখনো হতাশ হননি। ২০২১ সালে ছাত্রদল থেকে বিদায় নিয়ে তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল-এ। সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে এস এম জিলানী ও রাজিব আহসান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ছাত্র রাজনীতি শেষ করে স্বেচ্ছাসেবক দলে যোগদান করেই দলের সকল দায়িত্ব দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করেছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবনকে তুচ্ছ করে তারেক রহমান ও আমার সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা পালন করেছি। দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ধারন করেছি বলে আমাকে চট্টগ্রামে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এভাবেই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে তৃণমূলের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দল ও গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করেছি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা রুবেল মাতাব্বর বলেন,রফিকুল ইসলাম রফিক ভাই শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক কর্মী নন; তিনি ত্যাগ, সাহস, নেতৃত্ব ও আদর্শিক দৃঢ়তার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার সাথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তিনি পরিশ্রমী ও কর্মীবান্ধব নেতা। অাগামি দিনে তাকে সংগঠনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব দিলে অামরা বিশ্বাস করি তিনি সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট হবেন এবং সংগঠনের কর্মকান্ডকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবেন।