বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নলডাঙ্গায় বিএনপি কর্তৃক ২ সাংবাদিক হেনস্তা , থানায় লিখিত অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের নলডাঙ্গায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপি- যুবদলের নেতাদের দ্বারা কাজে বাঁধা,মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া ও হেনাস্থার স্বীকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। সোমবার(২৮ মে) সকাল ১১ টার দিকে, নলডাঙ্গা বারনই নদীর সেতুর উপর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপুরে এনটিভি অনলাইন ও দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক মোঃ রানা আহমেদ বাদী হয়ে বিএনপির দুই নেতা ও […]

নলডাঙ্গায় বিএনপি কর্তৃক ২ সাংবাদিক হেনস্তা , থানায় লিখিত অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ মে ২০২৬, ০০:৩৪

নাটোর প্রতিনিধিঃ

নাটোরের নলডাঙ্গায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপি- যুবদলের নেতাদের দ্বারা কাজে বাঁধা,মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া ও হেনাস্থার স্বীকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক।

সোমবার(২৮ মে) সকাল ১১ টার দিকে, নলডাঙ্গা বারনই নদীর সেতুর উপর এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দুপুরে এনটিভি অনলাইন ও দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক মোঃ রানা আহমেদ বাদী হয়ে বিএনপির দুই নেতা ও ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে,নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নলডাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দৈনিক দিনকাল ও এনটিভি অনলাইন নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি ও মানবজমিন পত্রিকার নলডাঙ্গা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস নামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

এসময় পুকুর খননের মাটি এনে নলডাঙ্গা পৌরসভার ভবন নির্মাণের জন্য ভরাট কাজ চলছিল। সেই মাটি অবৈধ যান কাকড়া দিয়ে পরিবহন করে মাটি আনার সময় অনেক মাটি নলডাঙ্গা বারনই সেতুর ঢালে পড়ে কাদামাক্ত হয়ে চলাচলে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনায় সাধারন মানুষের মৃত্যু ঝুঁকির আশংকা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চলাচলের সড়কে পড়ে থাকা মাটির দৃশ্য ভিডিও ধারন করলে নলডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ ব্চ্চু সরদার ও তার সহযোগি মাধনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ টিটু সরদার ও তার বড় ভাই মাধনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোঃ মানিকুজ্জামান বিদ্যুত পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কাজে বাধা, ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয়। এসময় ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ রাশেদ আলম ভিডিও ধারনের সময় জোর পূর্বক মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্থা করেন। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নলডাঙ্গা পৌরসভার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এলাকার একটি পুকুর কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ওই পুকুর খননের অভিযোগ এনে সেখানে অভিযান চালিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে সম্প্রতি সেই পুকুর থেকেই পুনরায় মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে নাটোর-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বহন করা হচ্ছিল।

ট্রাক্টর থেকে মাটি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সোমবার সকালে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের সংবাদচিত্র ও ভিডিও ধারণ করতে যান সাংবাদিক রানা আহমেদসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,সংবাদচিত্র ধারণ করার সময় হঠাৎ স্থানীয় বিএনপি নেতা বাচ্চু সরদারের নেতৃত্বে,মাধনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ টিটু সরদার ও তার বড় ভাই মাধনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোঃ মানিকুজ্জামান বিদ্যুত

তাদের ওপর চড়াও হন। তারা সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরে আলম বলেন,আমরা সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোঃ আল এমরান আলী খাঁন বলেন, সড়কে মাটি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নিয়েছি। সেতুর ঢালে মাটি পড়লে বৃষ্টি হলে সেই মাটি কাদামাক্ত হয়ে দুর্ঘটনা ঝুঁকি বাড়তে পাড়ে। এ জন্য চলাচলের সড়কে পড়ে থাকা মাটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, নাটোর জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল।

এছাড়াও নিন্দা জানান,

নলডাঙ্গা পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এস এম সান্টু। তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতরা বিএনপির কেউ নয় এবং তিনি তাদের চিনেন না।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।