নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের নলডাঙ্গায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপি- যুবদলের নেতাদের দ্বারা কাজে বাঁধা,মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া ও হেনাস্থার স্বীকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক।
সোমবার(২৮ মে) সকাল ১১ টার দিকে, নলডাঙ্গা বারনই নদীর সেতুর উপর এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দুপুরে এনটিভি অনলাইন ও দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক মোঃ রানা আহমেদ বাদী হয়ে বিএনপির দুই নেতা ও ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে,নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নলডাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দৈনিক দিনকাল ও এনটিভি অনলাইন নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি ও মানবজমিন পত্রিকার নলডাঙ্গা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস নামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
এসময় পুকুর খননের মাটি এনে নলডাঙ্গা পৌরসভার ভবন নির্মাণের জন্য ভরাট কাজ চলছিল। সেই মাটি অবৈধ যান কাকড়া দিয়ে পরিবহন করে মাটি আনার সময় অনেক মাটি নলডাঙ্গা বারনই সেতুর ঢালে পড়ে কাদামাক্ত হয়ে চলাচলে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনায় সাধারন মানুষের মৃত্যু ঝুঁকির আশংকা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চলাচলের সড়কে পড়ে থাকা মাটির দৃশ্য ভিডিও ধারন করলে নলডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ ব্চ্চু সরদার ও তার সহযোগি মাধনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ টিটু সরদার ও তার বড় ভাই মাধনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোঃ মানিকুজ্জামান বিদ্যুত পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কাজে বাধা, ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয়। এসময় ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ রাশেদ আলম ভিডিও ধারনের সময় জোর পূর্বক মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্থা করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নলডাঙ্গা পৌরসভার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এলাকার একটি পুকুর কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ওই পুকুর খননের অভিযোগ এনে সেখানে অভিযান চালিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে সম্প্রতি সেই পুকুর থেকেই পুনরায় মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে নাটোর-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বহন করা হচ্ছিল।
ট্রাক্টর থেকে মাটি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সোমবার সকালে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের সংবাদচিত্র ও ভিডিও ধারণ করতে যান সাংবাদিক রানা আহমেদসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,সংবাদচিত্র ধারণ করার সময় হঠাৎ স্থানীয় বিএনপি নেতা বাচ্চু সরদারের নেতৃত্বে,মাধনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ টিটু সরদার ও তার বড় ভাই মাধনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোঃ মানিকুজ্জামান বিদ্যুত
তাদের ওপর চড়াও হন। তারা সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরে আলম বলেন,আমরা সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোঃ আল এমরান আলী খাঁন বলেন, সড়কে মাটি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নিয়েছি। সেতুর ঢালে মাটি পড়লে বৃষ্টি হলে সেই মাটি কাদামাক্ত হয়ে দুর্ঘটনা ঝুঁকি বাড়তে পাড়ে। এ জন্য চলাচলের সড়কে পড়ে থাকা মাটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, নাটোর জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল।
এছাড়াও নিন্দা জানান,
নলডাঙ্গা পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এস এম সান্টু। তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতরা বিএনপির কেউ নয় এবং তিনি তাদের চিনেন না।