রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বিলুপ্তির পথে শতবছরের রাখাইন কালচারাল একাডেমি

সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ​সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার আদিম অধিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়। তাদের হাত ধরেই এই উপকূলীয় জনপদে একসময় সভ্যতার আলো জ্বলেছিল। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের ধারক ‘রাখাইন কালচারাল একাডেমি’ আজ নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘ আট বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিলুপ্তির পথে এই জনগোষ্ঠীর ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি। ​১৯৯৬ সালে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৩

সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

​সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার আদিম অধিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়। তাদের হাত ধরেই এই উপকূলীয় জনপদে একসময় সভ্যতার আলো জ্বলেছিল। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের ধারক ‘রাখাইন কালচারাল একাডেমি’ আজ নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘ আট বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিলুপ্তির পথে এই জনগোষ্ঠীর ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি।

​১৯৯৬ সালে গৃহীত প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৮ সালের ১৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল কুয়াকাটা রাখাইন কালচারাল একাডেমি। উদ্দেশ্য ছিল—রাখাইনদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমির ভবনে বড় বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। চারপাশ ময়লার দখলে স্তূপে ঢাকা পড়ে এটি এখন এক ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। একাডেমি ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষিত না হলেও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেতরে জমেছে ময়লার স্তূপ, আর বাইরে ঝুলছে স্থবিরতার তালা।

​একাডেমির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাখাইন তরুণ সমাজ। কেরানীপাড়ার একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পাড়ায় কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক নেই। ফলে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারলেও বর্ণমালার সাথে পরিচিতি হারাচ্ছে।

শিক্ষার্থী ​রাখাইন মং-এর ভাষ্যমতে নামে মাত্র একটি সংগঠন আছে, কিন্তু এর কার্যক্রম কোথায়? কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সংস্কৃতির কোনো চর্চা নেই। এভাবে চললে আমাদের নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্য দ্রুতই হারিয়ে যাবে।

কুয়াকাটা একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। অথচ এখানে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে রাখাইন সংস্কৃতি প্রদর্শনের কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই।

​একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি তদারকির অভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে কমিটির দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানটি স্থবির হয়ে পড়েছে। 

​রাখাইন কালচারাল একাডেমির অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমং তালুকদার জানান, আমার বড় ভাই মংচোমিং তালুকদারের মৃত্যুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে এলাকার বাইরের কিছু লোক প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করলেও আট বছরেও কোনো আলোর মুখ দেখেনি এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমান কমিটি এবং ভবন সংস্কার নিয়ে সরকারের উদাসীনতায় আমরা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন।

​শুধু রাখাইনরাই নয়, স্থানীয় মুসলিম সমাজও এই একাডেমি সচলের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, রাখাইনদের ইতিহাস কুয়াকাটার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি রক্ষা করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটন গুরুত্বও ম্লান হবে। 

​রাখাইন সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন যে, জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে কোনো হাউজিং কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি তত্ত্বাবধানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা। যেখানে উপরে বাণিজ্যিক অংশ থাকবে এবং নিচের তলাগুলোতে কালচারাল একাডেমির কার্যক্রম চলবে। ভবনের বাণিজ্যিক আয় থেকে অসচ্ছল রাখাইন পরিবারগুলোকে সহায়তা করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। নিজস্ব ভাষার বই, দক্ষ শিক্ষক এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা রাখাইন সাংস্কৃতি উপভোগ করতে পারেন।

সমুদ্রের লোনা হাওয়ার সাথে মিশে আছে যে ইতিহাস, তা রাখাইনদের। ১৭৮৪ সালে আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে ১৫০টি রাখাইন পরিবার কুয়াকাটার এই সৈকতে প্রথম বসতি স্থাপন করেছিল। বন্য পশুপাখি আর গহীন জঙ্গল পরিষ্কার করে তারা গড়ে তুলেছিল এক সমৃদ্ধ জনপদ। অথচ আজ সেই আদিম অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রধান দুর্গ ‘কুয়াকাটা রাখাইন কালচারাল একাডেমি’ নিজেই এখন ধ্বংসস্তূপ। ভবনটির গায়ে পড়া ফাটল যেন এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হৃদয়ে জমা হওয়া ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি।

​কুয়াকাটা এখন আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারতো রাখাইন সংস্কৃতি। অথচ সরকারি উদাসীনতায় তা এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একসময় উপকূলীয় জনপদ থেকে হারিয়ে যাবে এই অনন্য জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।