সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
এক টাকা বা দুই টাকা ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও তার বদলে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে চকলেট কিংবা সিভিট। কোথাও কোথাও পাঁচ টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মুদি দোকান, মনোহারি দোকান ও ফার্মেসিতে এটি এখন প্রায় নিত্যদিনের চিত্র। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে আইনত বৈধ থাকা পরেও ১ ও ২ টাকার নোট ও কয়েন কি অঘোষিতভাবে অচল হয়ে গেল?
উপজেলার এক ক্রেতা নাজিমুদ্দিন বলেন, সম্প্রতি একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা করে আমার বিল হয়েছিল ৪৮ টাকা। ৫০ টাকা দেওয়ার পর দোকানদার দুই টাকা ফেরত না দিয়ে একটি চকলেট ধরিয়ে দেন। টাকা ফেরত চাইলে দোকানদার বলেন, এক-দুই টাকার নোট বা কয়েন কেউ নেয় না, তাই আমরা চকলেট দিই।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান মারুফ, সাদিকুল এবং নোমানসহ কয়েকজন ক্রেতা। তারা বলেন, মনোহারি দোকানে চকলেট, ফার্মেসিতে সিভিট বা অন্য পণ্য দিয়ে ফেরত টাকা সমন্বয় করা এখন যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
তারা বলেন, খুচরা টাকা না থাকার অজুহাতে অনেক দোকানদার ফেরত টাকা না দিয়ে চকলেট বা সিভিট ধরিয়ে দেন। কেউ আপত্তি জানালে বলা হয়, খুচরা নেই, চকলেটই নেন। আবার অনেক দোকানদার ১ ও ২ টাকার নোট কিংবা কয়েন নিতেও অনীহা প্রকাশ করেন। এতে প্রতিদিন অল্প অল্প করে প্রকৃত পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্রেতারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার জেনারেল মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো নোট বা মুদ্রাকে অচল ঘোষণা না করা পর্যন্ত তা বৈধ মুদ্রা (লিগ্যাল টেন্ডার) হিসেবে গণ্য হবে এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্রহণযোগ্য। তাই প্রচলিত ১ ও ২ টাকার নোট ও মুদ্রাও আইন অনুযায়ী বৈধ লেনদেনের অংশ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ১ ও ২ টাকার কয়েন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী। ছোট মূল্যমানের মুদ্রা স্বাভাবিকভাবে লেনদেনে ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
সরকারি বিন্দুবাসিনী স্কুলের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী শিক্ষক নূর নবী বলেন, ক্রেতার সম্মতি ছাড়া ফেরত টাকার পরিবর্তে চকলেট বা অন্য কোনো পণ্য দেওয়া আইনসম্মত নয়। একজন ক্রেতা তার প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন।
সখীপুর খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ছোট মূল্যমানের নোট ও মুদ্রা বাজারে সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে পর্যাপ্ত খুচরা মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
কয়েকজন দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক ক্রেতা ১ ও ২ টাকার নোট বা কয়েন নিতে চান না। তাই বাধ্য হয়েই চকলেট বা অন্য পণ্য দিয়ে সমন্বয় করতে হয় আমাদের।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ক্রেতাকে চকলেট, সিভিট বা অন্য কোনো পণ্য নিতে বাধ্য করা যাবে না। ক্রেতা চাইলে অবশ্যই তার ফেরত টাকা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
যদি কোনো ক্রেতা স্পষ্টভাবে টাকা ফেরত চান, তাহলে দোকানদারকে সেই টাকাই দিতে হবে। টাকা না দিয়ে জোর করে অন্য পণ্য দেওয়া আইনসম্মত নয়। এ ধরনের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।