বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপ হলে বিসিবি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউন্সিলর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
রোববার রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে তামিম ইকবালসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ক্রিকেট সংগঠক অভিযোগ করেন, বিসিবি সভাপতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দসই প্রার্থীদের সুবিধা করে দিতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাউন্সিলরশিপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ক্রিকেট সংগঠকদের ওপর মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ তোলা হয়।
সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, “বিসিবির নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এখানে সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ছলচাতুরি মেনে নেওয়া হবে না।”
একই সংবাদ সম্মেলনে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের কাউন্সিলর পদ পাওয়া বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“যদি সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ না হয় তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিসিবি ঘেরাও করা হবে, রাজনৈতিকভাবেও এই হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করা হবে।”
আগামী ৪ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি সিবগাত উল্লাহ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিসিবির নির্বাচনকে ঘিরে যে ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, তা দেশের ক্রীড়া প্রশাসনকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে টেনে আনছে। ক্রিকেট সংগঠকদের এই প্রকাশ্য অভিযোগ প্রমাণ করছে, মাঠের খেলাই নয়, এখন বোর্ডের নির্বাচনী লড়াইয়েও শক্তি ও প্রভাব খাটানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।