প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সারাদেশের মানুষ যখন সমব্যথী, তখন সিইসির বক্তব্য আমাদের গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। এ বিষয়ে সিইসিকে নিজের অবস্থান ও বক্তব্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একজন বিপ্লবী আহত হওয়ার পর সরকার নড়েচড়ে বসবে—এমন সরকার আমরা চাই না। রাষ্ট্রব্যবস্থা এমন হতে হবে, যেখানে অন্যায় ঘটার আগেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।” তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্দোলনের ওপর আঘাত।
জামায়াত আমির আরও বলেন, “৫৪ বছর ধরে জাতির ভাগ্য চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেটিকে ধরে রাখার সুযোগ এখনো আছে।” তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামি ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবে।
ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অনেকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ করলেও জামায়াতে ইসলামি কখনো আপোষ করেনি। ভবিষ্যতেও কোনো অন্যায় ও জুলুমের সঙ্গে আপোষ করবে না।”
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের বক্তব্য ভালো না লাগলে পুরোপুরি ব্ল্যাকআউট করুন, কিন্তু খণ্ডিত অংশ প্রচার করে আমাদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াবেন না। ন্যায্য ও সত্য সমালোচনা আমরা গ্রহণ করবো, তবে এমন সাংবাদিকতা করবেন না যাতে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তিনি হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়াকে সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার ফলেই আজ দেশে এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।