এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে খালি সিলিন্ডার ও হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, সরকার রান্নাঘর পর্যন্ত চলে গেছে। জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো গ্যাসের দাম কমাতে হবে।
আজ সোমবার রাতে রাজধানীর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে এনসিপির কার্যালয়ের নিচে ২৯ দিনের ব্যবধানে দুই দফা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তার কাছে খালি সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল দেখা গেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আগে শেখ হাসিনা রাতের বেলায় কাজ করতেন, এখন তারেক রহমানও রাতের বেলায় কাজ শুরু করেছেন। শেখ হাসিনার মতো রাতের বেলায় দাম বাড়ানো হচ্ছে। এটি একটি জনবিরোধী সিদ্ধান্ত। সরকার নিজেদের শিশু সরকার বলে সময় চেয়েছিল। কিন্তু তাদের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু ওই কমিটির সুপারিশ অনুসরণ না করে কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের ইচ্ছা অনুযায়ী গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎ চলে যেতে দেখতাম, এখন গ্যাসও চলে যাচ্ছে। জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এই অযৌক্তিক দাম কমিয়ে আনতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, আপনারা খালি গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে রাজপথে নেমে আসুন। যার যা আছে, হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ুন। এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এটি তারেক রহমানের সিন্ডিকেট সরকার। সরকারকে জোরালোভাবে বলব, এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এভাবে চলতে থাকলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এ পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকার সুযোগ নেই। দ্রুত গ্যাসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে না আনলে জ্বালানি নিয়ন্ত্রক কমিশন ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে হতে পারে।
তিনি বলেন, আজ তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে এনসিপি।