২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অবাস্তব ও বাস্তবায়ন অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম। তিনি দাবি করেন, এ বাজেটে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়নি; বরং বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
বক্তব্যে মাহবুবুল আলম বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেই সম্পদের অসম বণ্টন, সুশাসনের ঘাটতি এবং দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু এসব সমস্যা নিরসনে বাজেটে কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা বা সুস্পষ্ট কৌশল উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। গত কয়েক মাসের বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি দলের নির্বাচনী এলাকাগুলো তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ পেলেও বিরোধীদলীয় আসনগুলো বঞ্চিত হচ্ছে।
সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেটের উন্নয়ন ব্যয় দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে সমানভাবে বণ্টনের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বৈষম্যের দলিল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো—যেমন তিস্তা প্রকল্প, কুড়িগ্রাম ইপিজেড এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাজেটে কোনো কার্যকর বরাদ্দ রাখা হয়নি। একই সঙ্গে কৃষি খাতেও প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করনীতির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর আরোপিত করও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।
তার বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মতো ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্যও বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।