বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবার নানা অনিয়ম নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা করেছেন আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতাল ভালো সেবা দিলেও রোগীদের সাধারণ অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
তার মতে, ডাক্তাররা রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন না—এটাই সবচেয়ে বড় অভিযোগ। অনেক সময় রোগী পুরো সমস্যার কথা বলার আগেই চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লেখা শুরু করেন। অথচ রোগীরা যদি মনে করেন ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, সেই আস্থাতেই তারা অর্ধেক সুস্থ হয়ে যান।
তিনি গরিব রোগীদের ওপর অযথা টেস্টের চাপ দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, “১৪-১৫টি টেস্ট করানো অমানবিক। বড়লোকদের থেকে নিলেও গরিবদের প্রতি দয়া দেখাতে হবে।” একই সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রভাব থেকে বের হয়ে আসার পরামর্শ দেন। তার মতে, চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে বাধ্য করা উচিত নয়।
টেস্টের ফলাফল ভুল আসা এবং নার্স ও কর্মচারীদের খারাপ ব্যবহার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকা আয় করা হাসপাতাল মালিকরা যদি নার্সদের সামান্য বেতন বাড়ান তবে সেবার মান অনেক বাড়বে। “প্রফিট ১০% কম হলেও রোগীদের সেবা বাড়বে, আর আল্লাহর কাছ থেকেও পুরস্কার মিলবে,” মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা সেবার মান উন্নত হলে মানুষ আর ভারত বা ব্যাংককে চিকিৎসার জন্য ছুটবে না। এতে বিদেশমুখী রোগীর প্রবণতা কমবে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার দেশের ভেতরেই থাকবে।
সবশেষে আসিফ নজরুল চিকিৎসা বীমা চালুর ওপর জোর দেন। তার মতে, এতে ধনী-গরিব সবার ভোগান্তি কমবে এবং ন্যায্য খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। হাসপাতাল মালিক ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে সম্মান, ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে সেবা দিন, তাহলেই রোগীরা বিদেশমুখী হবেন না।”