সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু রিমান্ড শুনানিতে দাবি করেছেন, “রিয়াদের ডাকে গিয়ে ফেঁসে গেছি, আমি জড়িত নই।”
শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় অপুকে। আদালতের শুনানিতে মাথা নিচু করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “রিয়াদ ছাড়া বাকি ৪ জন নির্দোষ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরে জানতে পারি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে, আমি তখনই সরে পড়ি। আমাদের লোকেশন ট্র্যাক করলে সত্য জানা যাবে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিডিয়া ট্রায়ালের অংশ। অপু একজন সম্মুখ সারির আন্দোলনকর্মী এবং এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, “আসামিরা ‘জুলাই আন্দোলন’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোটি টাকার চাঁদাবাজিতে লিপ্ত ছিল। রিমান্ডে এনে ঘটনার মূল রহস্য ও গডফাদারদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করত। বাদীর বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তারা ৫০ লাখ টাকা দাবি করে।
শুনানি শেষে আদালত জানে আলম অপুর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এ মামলার মূল আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।