মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সরকারি প্রকল্পে হরিলুট, শতকোটি টাকার মালিক জহিরুল

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এক কাপড়ে এসে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ লামায় ঠাঁই নিয়েছিলেন সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম। এর পরে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে জহিরুল ইসলাম দুই মেয়াদে লামা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হয়েই সরকারি বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট করে হাতিয়া থেকে আসা সেই জহিরুল এখন শতকোটি […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৩:৩০

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এক কাপড়ে এসে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ লামায় ঠাঁই নিয়েছিলেন সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম। এর পরে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে জহিরুল ইসলাম দুই মেয়াদে লামা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হয়েই সরকারি বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট করে হাতিয়া থেকে আসা সেই জহিরুল এখন শতকোটি টাকার মালিক।

স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অন্যদিকে মেয়র। এই দুই ক্ষমতার প্রভাবে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব ক্যাড়ার বাহিনী। ভয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদের সাহস করত না। তাই জহিরুলের একক আধিপত্যে চলত পুরো লামা উপজেলা।

পৌরসভার বিভিন্ন বরাদ্দের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লামা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একযোগে ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নজিরবিহীন লুটপাট অনিয়ম দুর্নীতি করে বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা মেরে দিয়েছেন সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরপি) থেকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ থেকেও তিনি লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরেছেন।

পৌরসভায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জহিরুল ইসলাম খাদ্যশস্যের ২০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ‘লামা মুখ বাজার হতে মাইন উদ্দীনের বাড়ি অভিমুখী রাস্তায় মাটি ভরাট ও এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন, কলিঙ্গাবিল দক্ষিণ পাড়ার কামাল মাঝির বাড়ি অভিমুখী রাস্তায় মাটি ভরাট ও এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন, পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেলাই মেশিন বিতরণ, প্রান্তিক চাষিদের কৃষি উপকরণ বিতরণ, লামা মুখ সড়কে সৌন্দর্য বর্ধনে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, নুনারবিল সরকারি মড়েল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনে ফুল গাছের চারা রোপণ ও টাইলসসহ টব স্থাপন, কুড়ালিয়ারটেক জামে মসজিদের উন্নয়ন, পৌর এলাকার বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শিলেরতুয়া বৌদ্ধবিহারের উন্নয়ন, চাম্পাতলী মাঝি পাড়া ও গুলির মাঠের পাড়ার রাস্তা সংস্কার এবং মাটি ভরাট, লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের উন্নয়ন।

লাইনঝিরি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিমুখী রাস্তার পাশে ড্রেনের মাটি অপসারণ ও রওজাঝিরি রাস্তা এইচবিবিসহ সংস্কার, কাটা পাহাড় ও কাশেম মিস্ত্রি পাড়ার রাস্তার মাটি অপসারণ এবং মেরামত, মধুঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ মাটি ভরাট এবং নূরানী মাদ্রাসার উন্নয়ন, পৌরসভা কার্যালয়ে সৌন্দর্য বর্ধনে ফুল গাছের চারা রোপণ, লামা বাজারের বিভিন্ন গলি ও পাড়ায় ডাস্টবিন স্থাপন, নয়াপাড়া ইসহাকের বাড়ি হতে আমিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, কলিঙ্গাবিল বেলায়েতের বাড়ি হতে জাফর সর্দারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধবিহারের উন্নয়ন, পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সরবরাহ।’ প্রতিটি প্রকল্পের জন্য তিনি সাড়ে ৭ টন চাল এবং আড়াই টন গম বরাদ্দ পেয়েছেন। এসব প্রকল্প শুধু কাগজকলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এসব বরাদ্দের চাল এবং গম বিক্রি করে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শুধু এসব প্রকল্প লুটপাটে সীমাবদ্ধ নয়, তার অনিয়ম দুর্নীতি। মেয়র থাকাকালীন সরকারি বরাদ্দে লুটপাট করেছেন যা নজিরবিহীন। এভাবে দুই মেয়াদে মেয়র হয়ে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট এবং কমিশন বাণিজ্য করে তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম নিজের এবং স্ত্রীসহ নামে বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন। তিনি লামা প্রেস ক্লাবের পাশে কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট কিনেছেন। জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজের পাশে নিজ এবং ভাইয়ের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে কিনেছেন চারটি বাজার প্লট। পর্যটন স্পষ্ট মারাইংচা হিলে রয়েছে স্ত্রীর শেয়ার। মুধুরঝিরি এলাকায় গড়ে তুলছেন কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাট। এছাড়া মারাইংচা এলাকায় তার স্ত্রী, শ্যালক ও ভাইয়ের নামে কিনেছেন প্রায় ৮০০ একর জমি।

নির্বাচনি হলফনামায় মেয়র জহিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীর নামে স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তার এবং তার স্ত্রীর হলফনামা দেওয়া সম্পদ থেকে হাজার গুণ সম্পদ বেড়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠানো হলে, তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলতে রাজি হন। পরে তার নানা অনিয়মের প্রসঙ্গ তোলা হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হয়রানি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।