বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সরকারি প্রকল্পে হরিলুট, শতকোটি টাকার মালিক জহিরুল

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এক কাপড়ে এসে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ লামায় ঠাঁই নিয়েছিলেন সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম। এর পরে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে জহিরুল ইসলাম দুই মেয়াদে লামা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হয়েই সরকারি বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট করে হাতিয়া থেকে আসা সেই জহিরুল এখন শতকোটি […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৩:৩০

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এক কাপড়ে এসে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ লামায় ঠাঁই নিয়েছিলেন সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম। এর পরে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে জহিরুল ইসলাম দুই মেয়াদে লামা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হয়েই সরকারি বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট করে হাতিয়া থেকে আসা সেই জহিরুল এখন শতকোটি টাকার মালিক।

স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অন্যদিকে মেয়র। এই দুই ক্ষমতার প্রভাবে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব ক্যাড়ার বাহিনী। ভয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদের সাহস করত না। তাই জহিরুলের একক আধিপত্যে চলত পুরো লামা উপজেলা।

পৌরসভার বিভিন্ন বরাদ্দের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লামা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একযোগে ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নজিরবিহীন লুটপাট অনিয়ম দুর্নীতি করে বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা মেরে দিয়েছেন সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরপি) থেকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ থেকেও তিনি লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরেছেন।

পৌরসভায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জহিরুল ইসলাম খাদ্যশস্যের ২০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ‘লামা মুখ বাজার হতে মাইন উদ্দীনের বাড়ি অভিমুখী রাস্তায় মাটি ভরাট ও এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন, কলিঙ্গাবিল দক্ষিণ পাড়ার কামাল মাঝির বাড়ি অভিমুখী রাস্তায় মাটি ভরাট ও এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন, পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেলাই মেশিন বিতরণ, প্রান্তিক চাষিদের কৃষি উপকরণ বিতরণ, লামা মুখ সড়কে সৌন্দর্য বর্ধনে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, নুনারবিল সরকারি মড়েল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনে ফুল গাছের চারা রোপণ ও টাইলসসহ টব স্থাপন, কুড়ালিয়ারটেক জামে মসজিদের উন্নয়ন, পৌর এলাকার বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শিলেরতুয়া বৌদ্ধবিহারের উন্নয়ন, চাম্পাতলী মাঝি পাড়া ও গুলির মাঠের পাড়ার রাস্তা সংস্কার এবং মাটি ভরাট, লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের উন্নয়ন।

লাইনঝিরি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিমুখী রাস্তার পাশে ড্রেনের মাটি অপসারণ ও রওজাঝিরি রাস্তা এইচবিবিসহ সংস্কার, কাটা পাহাড় ও কাশেম মিস্ত্রি পাড়ার রাস্তার মাটি অপসারণ এবং মেরামত, মধুঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ মাটি ভরাট এবং নূরানী মাদ্রাসার উন্নয়ন, পৌরসভা কার্যালয়ে সৌন্দর্য বর্ধনে ফুল গাছের চারা রোপণ, লামা বাজারের বিভিন্ন গলি ও পাড়ায় ডাস্টবিন স্থাপন, নয়াপাড়া ইসহাকের বাড়ি হতে আমিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, কলিঙ্গাবিল বেলায়েতের বাড়ি হতে জাফর সর্দারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধবিহারের উন্নয়ন, পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সরবরাহ।’ প্রতিটি প্রকল্পের জন্য তিনি সাড়ে ৭ টন চাল এবং আড়াই টন গম বরাদ্দ পেয়েছেন। এসব প্রকল্প শুধু কাগজকলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এসব বরাদ্দের চাল এবং গম বিক্রি করে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শুধু এসব প্রকল্প লুটপাটে সীমাবদ্ধ নয়, তার অনিয়ম দুর্নীতি। মেয়র থাকাকালীন সরকারি বরাদ্দে লুটপাট করেছেন যা নজিরবিহীন। এভাবে দুই মেয়াদে মেয়র হয়ে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট এবং কমিশন বাণিজ্য করে তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম নিজের এবং স্ত্রীসহ নামে বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন। তিনি লামা প্রেস ক্লাবের পাশে কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট কিনেছেন। জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজের পাশে নিজ এবং ভাইয়ের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে কিনেছেন চারটি বাজার প্লট। পর্যটন স্পষ্ট মারাইংচা হিলে রয়েছে স্ত্রীর শেয়ার। মুধুরঝিরি এলাকায় গড়ে তুলছেন কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাট। এছাড়া মারাইংচা এলাকায় তার স্ত্রী, শ্যালক ও ভাইয়ের নামে কিনেছেন প্রায় ৮০০ একর জমি।

নির্বাচনি হলফনামায় মেয়র জহিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীর নামে স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তার এবং তার স্ত্রীর হলফনামা দেওয়া সম্পদ থেকে হাজার গুণ সম্পদ বেড়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠানো হলে, তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলতে রাজি হন। পরে তার নানা অনিয়মের প্রসঙ্গ তোলা হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হয়রানি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।