বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

‘সংবিধানে ইসলামকে দিকনির্দেশক হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে’

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবিধান সংস্কার : আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট একটি দেশ। ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক দিক থেকে এদেশে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই এদেশের সংবিধানে ইসলামকে নৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়টিও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। […]

নিউজ ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ২২:৪৩

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবিধান সংস্কার : আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট একটি দেশ। ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক দিক থেকে এদেশে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই এদেশের সংবিধানে ইসলামকে নৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়টিও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বালাকোট-চেতনা উজ্জীবন পরিষদের উদ্যোগে ‘সংবিধান সংস্কার: আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পরিষদের আহবায়ক মাওলানা কবি রূহুল আমীন খানের সভাপতিত্বে ও বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোহাম্মদ নজমুল হুদা খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিমকোর্টের মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ এ.বি. মাহমুদুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সদস্য সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এরফোর্ট ইউনিভার্সিটি, জার্মানি’র পিএইচডি গবেষক মারজান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি সৈয়দ এ.বি. মাহমুদুল হক বলেন, এদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমাদের পূর্বপুরুষ ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। তাই ইসলামের প্রতি আমাদের হৃদয়ের টান রয়েছে। তিনি মূল প্রবন্ধে উপস্থাপিত প্রস্তাবসমূহকে সুন্দর আখ্যায়িত করে বলেন, সংবিধান সংস্কারাধীন রয়েছে। এতে আমরা অনেক ভালো কিছু প্রত্যাশা করি।

মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ইতিহাসের নানা বাঁক অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, এদেশের মানুষ সময়ে সময়ে শোষণ, বঞ্চণা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব ইতিহাসের সে ধারারই অংশ। জুলাই বিপ্লবের পর নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সংস্কার ও উন্নয়নে নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠন করেছেন ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’। এ কমিশন দেশের সকল নাগরিকের নিকট থেকে সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রস্তাব আহ্বান করেছে।

সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এর বিপ্লবী চেতনা উজ্জীবনের লক্ষ্যে গঠিত ‘বালাকোট চেতনা উজ্জীবন পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে গত ২৩ নভেম্বর ১৯ দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। আমাদের দাবি, সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে, আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, হিযবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীনের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ এর সভাপতি ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রূহুল আমীন, বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন মুফতী আবু নছর জিহাদী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুল হক, মহাখালী দারুল উলূম হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, দারুল ফিকর ওয়াল ইফতা আল-ইসলামী বাংলাদেশ’র সদস্য সচিব মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ কুতবুল আলম, মাসিক পরওয়ানা’র সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ এস এম মনোয়ার হোসেন।

সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়ার পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শহিদুল হক, গোড়ান নাজমুল হক কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এমরানুল হক, মোহাম্মদপুর গাউসিয়া ফাযিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আ. ন. ম. মাহবুবুর রহমান, বঙ্গভবন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল কবির, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা মহানগর সভাপতি ইমাদ উদ্দীন তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ইকরাম কুতুবি, সাধারণ সম্পাদক আহমদ রায়হান ফারহি, জার্মানি বার্লিনের বাইতুল মুকাররামের খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দীন সিরাজী, শাহনুর প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাইমুল হক খান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে সংবিধান সংস্কারে ১৯ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়। এর মধ্যে- সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব’ ও ইসলামকে নৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখা, কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন না করা, আলিম-উলামা ও ইসলামী আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে ‘ইসলামিক আইডোলজি কাউন্সিল’ গঠন করা, এলজিবিটিকিউ বা ট্রান্সজেন্ডারের মতো বিষয় অধিকার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করা, মুসলমানদের বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ও অন্যান্য পারিবারিক বিষয় পূর্ণরূপে ইসলামী নীতি অনুসারে পরিচালনার স্বীকৃতি প্রদান, জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন, পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক ইসলামী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, ইসলামী অর্থনীতি ও শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন, সুদমুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থা প্রবর্তন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানসহ ধর্মীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবসমূহ উল্লেখ করার সাথে সাথে এগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে অন্যান্য দেশের আইন, সংবিধান ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উদাহরণও আনা হয়েছে। ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব’ এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, মৌরতানিয়া, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংবিধানে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী স্রষ্টার সার্বভৌমত্বের কথা বিভিন্ন পরিভাষায় প্রযুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রধর্মের কথাও মালয়েশিয়া, তিউনিসিয়া, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড-এর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।