অন্তত আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে এবার বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎখাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানায়, গত অর্থবছরে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরেও বড় অঙ্কের দেনা জমেছে। এ অবস্থায় ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব উঠলেও মন্ত্রীরা এতে সায় দেননি।
বরং অপারেশনাল খরচ কমানো, সিস্টেম লস হ্রাস এবং উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর পথ খুঁজতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কীভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিদ্যুৎখাতে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রিমূল্যের ব্যবধান এবং বিপুল দেনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন ভর্তুকি বৃদ্ধি বা ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন সিদ্ধান্ত।