শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

র‌্যাব বিলুপ্ত করুন, গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নন, এমন কর্মীদের নিজ নিজ ইউনিটে ফিরিয়ে দিন : জাতিসংঘ

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) বিলুপ্ত করুন এবং এবং গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নন, এমন কর্মীদের নিজ নিজ ইউনিটে ফিরিয়ে দিন। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন (ওএইচসিএইচআর)। এতে সরকারকে নানা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২১:৩২

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) বিলুপ্ত করুন এবং এবং গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নন, এমন কর্মীদের নিজ নিজ ইউনিটে ফিরিয়ে দিন। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন (ওএইচসিএইচআর)। এতে সরকারকে নানা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বিভাগে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিয়মাবলি এবং মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাংলাদেশের পুলিশ প্রবিধানগুলোকে সংশোধন করা প্রয়োজন। এ সংশোধনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বল প্রয়োগসহ, জনসমাগম ছত্রভঙ্গ করার জন্য ধাতবগুলো বা অন্যান্য প্রাণঘাতী গোলাবারুদ ব্যবহার সম্পর্কিত নির্দেশনা, যা আসন্ন মৃত্যু বা গুরুতর হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেবে। অবিলম্বে জনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার কৌশল হিসেবে শর্টগানের জন্য ধাতব শর্ট, গোলাবারুদ দিয়ে পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সজ্জিত করার চর্চা বন্ধ করুন।

সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীকে বর্মবিদ্ধ গোলাবারুদ দেওয়া সীমিত করার কথা জানিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বলছে, এগুলো সংস্কার করুন এবং পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন, সেখানে কীভাবে কম প্রাণঘাতী কৌশল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত করা এবং যোগাযোগমূলক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া, যা শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সহজ করে এবং যেখানে প্রয়োজন হয় কম প্রাণঘাতী কৌশল, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা।

ওএইচসিএইচআর জানায়, গণ-অভিযোগ ও গণগ্রেপ্তারের অনুশীলন বন্ধ করার জন্য পুলিশকে বাধ্যতামূলক আদেশ জারি ও প্রয়োগ করুন। বিশেষ করে অপ্রমাণিত ও সন্দেহভাজন তালিকার ওপর ভিত্তি করে গণগ্রেপ্তার করা হয়। ওয়ারেন্টেড, মিথ্যা অভিযোগে নির্বিচারে গ্রেপ্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও ফৌজদারি বিচারের ব্যবস্থা করুন।

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিষেধ) আইনের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাধ্যতামূলক আদেশ জারি ও প্রয়োগ করার কথা বলেছে ওএইচসিএইচআর। আরও বলা হয়, একটি স্বাধীন নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আটক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালু করুন। এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল স্বাক্ষরের জন্য বিবেচনা করুন। পুলিশের তদন্ত কৌশল, আদেশ, প্রচলিত ধ্যানধারণা দূর এবং ফরেনসিকসহ জোরজবরদস্তি ছাড়া কীভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়, তার কৌশল ও অন্যান্য পদ্ধতি যা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির আদায় এবং নিপীড়ন প্রতিরোধের সহায়তা করে, এমন বিষয়গুলোর ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খসড়া ২০০৭ পুলিশ অধ্যাদেশের ওপর ভিত্তি করে, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশগুলোকে আইন দিয়ে প্রতিস্থাপন করুন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিয়ম এবং মানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জননিরাপত্তা এবং জনসংখ্যার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকার ওপর জোর দেয়। এটিকে পুলিশে দুর্নীতির মূলোৎপাটন, গুরুতর অসদাচরণের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ধীরে ধীরে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

সুশীল সমাজসহ সরকার, বিরোধী দল ও স্বাধীন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় পুলিশ কমিশন গঠন করুন, যার নেতৃত্বে একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক পুলিশ নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও অপসারণ প্রক্রিয়া চালু করতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের মাধ্যমে পুলিশ ওভারসাইট ইউনিটকে প্রতিস্থাপন করুন, যা স্বরাষ্ট্র বা বাংলাদেশে পুলিশের চেইন অব কমান্ডের বাইরে থাকবে। এটি সুশীল সমাজসহ স্বাধীন সদস্যদের নিয়ে গঠিত হওয়া উচিত এবং একটি পাবলিক অভিযোগ নিরসর সংস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য বিশেষায়িত কর্মী, ক্ষমতা ও আইনি ক্ষমতা থাকতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মীদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যান্য গুরুতর অসদাচরণের বিষয়ে এটির নিজস্ব কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করার এখতিয়ার থাকবে। মামলাগুলোকে বিচারের জন্য রেফার করবে। একইভাবে সশস্ত্র বাহিনী এবং বিজিবি সদস্যদের দ্বারা ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে জবাবদিহি এবং বিচার বিভাগ সংস্কার করুন।

বিজিবির কাজগুলোকে সীমানা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা সমাধানে এবং ডিজিএফআইকে সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করুন এবং সেই অনুযায়ী তাদের সংস্থান এবং আইনি ক্ষমতা সীমায়িত করুন। আনসার/ভিডিপির ওপর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রোধ করুন এবং তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সহায়ক হিসেবে কাজে লাগান।

অধ্যাদেশ পাস করার বিষয়ে কমিশন বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শুধু সীমিত সময়ের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত করা যেতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ পাস করুন। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে জনগণের কাছে তাদের নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক ও সুশীল সমাজের মতামতের ভিত্তিতে একটি ব্যাপকভিত্তিক স্বাধীন এবং ন্যায্য যাচাই অনুসরণের মাধ্যমে পুলিশ, গোয়েন্দা, বিজিবি, আনসার ভিডিপি এবং সশস্ত্র বাহিনীর যেসব কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের পদ থেকে অপসারণ করুন।

ওএইচসিএইচআরে প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তি মিশন বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিশনে নিয়োজিত কোনো বাংলাদেশি কর্মী যাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, মানবিক বা শরণার্থী আইন লঙ্ঘন বা যৌন হয়রানি বা অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি কার্যকর ও শক্তিশালী স্বাধীন মানবাধিকার স্ক্রিনিং ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। এ ধরনের একটি স্ক্রিনিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের উচিত জাতিসংঘের শান্তি অপারেশন বিভাগের সঙ্গে একমত হওয়া যে সামরিক বা পুলিশ সদস্য যারা র‌্যাব, ডিজিএফআই বা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা অথবা বিজিবি ব্যাটিলিয়ানের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২৪ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য মনোনীত করা হবে না।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, […]

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।

ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।”

“যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭