সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে চীনের মধ্যস্থতা চান ট্রাম্প, বেইজিং কী চায়?

চতুর্থ বছরে পা দিতে যাওয়া ইউক্রেন সংকট সমাধানে কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন?—এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তার মতে, এই সংকট নিরসনে সাহায্য করতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ নিয়ে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। ট্রাম্পের আশা চলতি […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২০:১৩

চতুর্থ বছরে পা দিতে যাওয়া ইউক্রেন সংকট সমাধানে কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন?—এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তার মতে, এই সংকট নিরসনে সাহায্য করতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

এ নিয়ে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

ট্রাম্পের আশা

চলতি বছরের শুরুর দিকে (জানুয়ারিতে) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি, চীন আমাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সহায়তা করবে…। তাদের এ বিষয়ে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব’।

ট্রাম্প সে সময় দাবি করেন, ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিন আগেই তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মিউনিখে বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসতে পারে।

তবে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করে ট্রাম্প কি এই উদ্যোগকে জটিল করে ফেলেছেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলতি মাসেই চীনা আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের ইস্যুটি হতে পারে বিরল এক ক্ষেত্র, যেখানে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনের অবস্থান

চীন বরাবরই নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে দেখাতে চেয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ একটি নিজস্ব শান্তি পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেছে, যদিও সেটি বেশ অস্পষ্ট।

তবে পশ্চিমা বিশ্ব বরাবরই চীনের এই উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখেছে। কারণ বেইজিং দৃঢ়ভাবে মস্কোর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। যা চীনের জন্য একটি কঠিন সমীকরণ। কেননা, চীন একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন করতে পারে। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

চীনের জন্য ঝুঁকি এবং লাভ

চীনা বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, শি জিনপিং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলতে চাইবেন না। কারণ এটি চীনের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়। অন্যদিকে তাদের লক্ষ্য বিশ্ব ব্যবস্থাকে নিজের সুবিধামতো পুনর্গঠন করা।

নিউ ইয়র্কের স্টিমসন সেন্টারের চীন-বিষয়ক পরিচালক ইউন সান বলেন, ‘ট্রাম্প যদি চীনের সহযোগিতাকে মার্কিন-চীন সম্পর্কের উন্নতির প্রধান শর্ত হিসেবে মূল্যায়ন করেন, তাহলে বেইজিং এতে আগ্রহী হতে পারে। তবে তারা অবশ্যই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইবে না’।

ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও মিউনিখ সম্মেলন

এদিকে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আলোচনা হবে। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এই সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল নিয়ে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বর্তমানে ইউরোপ ও ইউক্রেন সফর করছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইউক্রেন-রাশিয়া বিষয়ে ট্রাম্পের দূত জেনারেল কিথ কেলোগ ইউরোপে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত।

তার ওপর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের বিষয়েও আলোচনা হবে।

ইউক্রেনের জন্য সহযোগিতা: বিনিময়ে সম্পদ?

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছি। তাহলে তারা আমাদের খনিজ সম্পদের সুযোগ দেবে না কেন?’

এ সময় তিনি ‘ইউক্রেন হয়তো একদিন রাশিয়ার অংশ হয়ে যাবে’ বলেও মন্তব্য করেন। আর তার এই মন্তব্যগুলো ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

চীনের ভূমিকা: সত্যিই কি শান্তি চায় দেশটি?

চীন দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরপেক্ষ বলে দাবি করলেও তারা রাশিয়ার বড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়ক হয়ে উঠেছে। চীন রাশিয়াকে সামরিক খাতে ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ রপ্তানি করছে। যা নিয়ে পশ্চিমারা বলছে, চীন রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি বৃদ্ধি করছে।

এছাড়া বেইজিং কখনোই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি, বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়েছে।

চীন যদি রাশিয়ার ওপর সত্যিই চাপ প্রয়োগ করতে চায়, তাহলে তারা রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারত। কিন্তু বেইজিং এটা করবে না, কারণ তারা রাশিয়াকে দুর্বল অবস্থায় দেখতে চায় না।

শি জিনপিং কি ট্রাম্পের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় আগ্রহী?

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় আগ্রহী কিনা, সেটি নির্ভর করবে ট্রাম্পের শর্তগুলোর ওপর। এর আগে বাইডেন প্রশাসন চীনকে পুতিনের ওপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। এখন ট্রাম্প তার নিজস্ব উপায়ে চীনকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

তবে বেইজিং এই (ইউক্রেন) যুদ্ধকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে—একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত করার জন্য।

এ বিষয়ে কানার্জি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো তং ঝাও বলেন, ‘চীন এখন এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে আমেরিকার প্রভাব কম থাকবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো চীনের পক্ষে থাকবে।

শান্তি, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ?

চলমান যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হতে পারে, যা এই তিন দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘শান্তি চুক্তির পরও যদি রাশিয়া তার দখল করা অঞ্চলগুলো ধরে রাখে, তাহলে তা আদতে যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং একটি সাময়িক বিরতি হবে’।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৭

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৭

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৭

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৭