সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

সোলেইমানির মৃত্যুর বদলা নিতে ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার ছক আইআরজিসির

ইরানের সাবেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করার প্রতিশোধ হিসেবে এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষেছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ এই খবর জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রেপ্তার হওয়া ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ‘অঙ্গীকার’ করেছিল। […]

সোলেইমানির মৃত্যুর বদলা নিতে ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার ছক আইআরজিসির

সোলেইমানির মৃত্যুর বদলা নিতে ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার ছক আইআরজিসির

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১০:১৮

ইরানের সাবেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করার প্রতিশোধ হিসেবে এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষেছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ এই খবর জানিয়েছে।

সম্প্রতি প্রেপ্তার হওয়া ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ‘অঙ্গীকার’ করেছিল। শুধু তা-ই নয়, ফ্লোরিডায় ইভাঙ্কার বাড়ির একটি মানচিত্র বা নকশাও সে সংগ্রহ করেছিল বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো।

ইরাকি নাগরিক আল-সাদি মূলত মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত আইআরজিসি’র শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ছয় বছর আগে বাগদাদে ওই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক কর্মকর্তা ইনতিফাদ কানবার ‘দ্য পোস্ট’-কে বলেন, ‘কাসেম নিহত হওয়ার পর আল-সাদি লোকজনকে বলে বেড়াত, ‘ট্রাম্প যেভাবে আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন, সেভাবেই ট্রাম্পের বাড়ি জ্বালিয়ে দিতে আমাদের ইভাঙ্কাকে খুন করতে হবে’।’

কানবার আরও বলেন, ‘আমরা শুনেছি যে তার কাছে ফ্লোরিডায় ইভাঙ্কার বাড়ির একটি নকশা ছিল।’ অন্য আরেকটি সূত্রও আল-সাদির এই হত্যার ছক নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ব্যক্তি বেশ সরব ছিল। সে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ফ্লোরিডার ওই বিশেষ আবাসিক এলাকার একটি মানচিত্র পোস্ট করে, যেখানে ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের ২৪ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি রয়েছে। মানচিত্রের পাশাপাশি সে আরবিতে একটি হুমকি দেয়, যার অর্থ: ‘আমি আমেরিকানদের বলছি এই ছবিটার দিকে তাকাতে। জেনে রাখো, তোমাদের রাজপ্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস কেউই তোমাদের বাঁচাতে পারবে না। আমরা এখন নজরদারি আর বিশ্লেষণের পর্যায়ে আছি। আমি তোমাদের আগেই বলেছি, আমাদের প্রতিশোধ নেওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার।’

আল-সাদি ইরাক ও ইরানের সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বেশ উপরের সারির একজন ব্যক্তি বলে পরিচিত। মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, গত ১৫ মে তুরস্ক থেকে আটকের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মিলিয়ে মোট ১৮টি হামলা ও হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে থাকা উল্লেখযোগ্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—গত মার্চ মাসে আমস্টারডামের ‘ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন’-এ বোমা হামলা, এপ্রিলে লন্ডনে দুই ইহুদিকে ছুরিকাঘাত এবং মার্চে টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের সামনে গুলি চালানোর ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারীদের মতে, আল-সাদি বেশ কিছু হামলার ‘পরিকল্পনা ও সমন্বয়’ করেছে এবং বেলজিয়ামের একটি ইহুদি উপাসনালয়ে বোমা হামলা, রটারড্যামে একটি মন্দিরে আগুন লাগানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া কিছু ব্যর্থ হামলারও দায় স্বীকার করেছে।

৪৪ বছর বয়সী ইভাঙ্কা ট্রাম্প রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জ্যারেড কুশনারকে বিয়ের আগে ২০০৯ সালে অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। এই গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জানা যায়, আল-সাদি একইসাথে ‘কাতায়েব হিজবুল্লাহ’ এবং ইরানের আইআরজিসি-র হয়ে কাজ করত।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘নিউ লাইন্স ইনস্টিটিউট’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক এলিজাবেথ সুরকোভ বলেন, ‘প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, মোহাম্মদ বাকের কাসেম সোলেইমানির বেশ কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর যেকোনো কর্মীর জন্য এটি অনেক বড় একটি ব্যাপার। সোলেইমানির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি জেনারেল ইসমাইল কানির সাথেও সে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে।’ সুরকোভ ২০২৩ সালে বাগদাদে অপহৃত হয়ে ‘কাতায়েব হিজবুল্লাহ’-র হাতে ৯০৩ দিন বন্দি ছিলেন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পান।

তবে আল-সাদি তাকে জিম্মি করা লোকদের মধ্যে ছিল কি না, তা সুরকোভ নিশ্চিত করতে পারেননি। কারণ, বন্দি অবস্থায় জিম্মিকারীরা সবসময় মুখোশ পরে থাকত।

সুরকোভ জানান, আল-সাদি জেনারেল ইসমাইল কানির সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল এবং কানি তাকে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্পদ দিয়ে যেতেন।

এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আল-সাদির আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কানবারের মতে, আল-সাদি কাসেম সোলেইমানির অনেক কাছাকাছি ছিল এবং তাকে পিতৃস্থানীয় মনে করত। আল-সাদির নিজের বাবা, যিনি নিজেও ইরানের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন, ২০০৬ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর সে সোলেইমানিকে আরও আপন করে নেয়।

আল-সাদির জীবনের বড় একটা অংশ কাটে বাগদাদে, মূলত তার ইরাকি মায়ের কাছে। কিন্তু পরে সে আইআরজিসি-র অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে তেহরানে যায় বলে জানান কানবার।

কানবার দাবি করেন, পরবর্তীতে আল-সাদি ধর্মীয় ভ্রমণের একটি ট্রাভেল এজেন্সি খোলে, যার আড়ালে মূলত বিশ্বের নানা দেশে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ার কাজ চালাত সে।

গত সপ্তাহে তুরস্কে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় আল-সাদির কাছে ইরাকি সরকারি বা ‘সার্ভিস পাসপোর্ট’ পাওয়া যায়। এই পাসপোর্ট মূলত সরকারি কর্মচারী এবং আমলাদের দেওয়া হয় এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া এটি পাওয়া সম্ভব নয় বলে কানবার জানিয়েছেন।

এই পাসপোর্টের সুবিধা ব্যবহার করে সে সহজেই ভ্রমণ করতে পারত, ইরাকি বিমানবন্দরে সাধারণ তল্লাশি এড়াতে পারত এবং ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পেত।

যদিও বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দরে তাকে তল্লাশির ভেতর দিয়েই যেতে হতো, কানবারের মতে, এই পাসপোর্ট থাকার কারণে সে খুব সহজেই এমন সব দেশের ভিসা পেত যেখানে সে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ধরা পড়ার সময় আল-সাদি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

তবে আইআরজিসি’র সন্দেহভাজন এই সদস্য হিসেবে আল-সাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু বেশিই সক্রিয় ছিল। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে দেখা যায়, সে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার এবং কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া, কায়াকিং করার সময়কার সেলফি এবং একটি মিসাইলের পাশে দাঁড়িয়ে বুক বরাবর হাত রাখা ছবিও সে আপলোড করেছিল।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, আল-সাদির স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টে এমন ছবিও পাওয়া গেছে যেখানে সে কাসেম সোলেইমানির সাথে কোনো একটি সামরিক ঘাঁটিতে বসে মানচিত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা করছে।

ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, সোলেইমানি নিহত হওয়ার সাত মাস পর, ২০২০ সালের আগস্টে আল-সাদি এক্স-এ একটি ছবি পোস্ট করে। ছবিতে এক সন্দেহভাজন কর্মীর হাতে একে-৪৭ রাইফেলসহ সোলেইমানি এবং মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত অন্য এক সামরিক নেতার ছবি দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে সে লিখেছিল: ‘আমেরিকান শত্রুরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেড়ে যাচ্ছি এবং আমার সব ফোন বন্ধ করে দিচ্ছি… জয় অথবা শাহাদাত।’

তবে, ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্ম থেকে তার এই বিদায় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালে সে তার এক্স অ্যাকাউন্টে আরেকটি পোস্ট দিয়ে এটিকে তার ‘শেষ টুইট’ বলে উল্লেখ করে। ওই পোস্টে সে সোলেইমানি এবং মার্কিন হামলায় নিহত অন্য ইরানি সামরিক নেতাদের ‘শহীদ’ বলে আখ্যায়িত করে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই পোস্টে সে লেখে: ‘আমি তোমাদের সাথে প্রচণ্ড দুর্বলতা এবং গভীর শকের মধ্য দিয়ে কথা বলছি, যা আমি জীবনে মাত্র একবার অনুভব করেছি—কাসেম সোলেইমানির শাহাদাতের দিন।’

আল-সাদি তার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুদের স্ন্যাপচ্যাট মেসেজ এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে হুমকি দিত। দ্য পোস্ট-এর দেখা মেসেজ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই সে সাইলেন্সার লাগানো একটি পিস্তলের ছবি পাঠাত।

এই সন্দেহভাজন কর্মীর সাথে লেবাননের প্যারামিলিটারি ফোর্স হিজবুল্লাহরও সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে সে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের সলিটারি কনফাইনমেন্ট বা নিঃসঙ্গ সেলে বন্দি রয়েছে। সেখানে সিইও-দের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত লুইগি ম্যানজিওন এবং আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিরাও রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬