শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

আইআরজিসির সামনে টিকতে পারবে না মার্কিন সেনারা, ইতিহাস স্বাক্ষী: দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের বিশ্লেষণ

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এক অদম্য ও প্রায়শই অবমূল্যায়িত শক্তি হিসেবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সদস্য এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ রিজার্ভ সদস্য নিয়ে গঠিত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই বৃহত্তম অংশ দেশটির রাজনীতি, গোয়েন্দা সংস্থা ও অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২৮ […]

আইআরজিসির সামনে টিকতে পারবে না মার্কিন সেনারা, ইতিহাস স্বাক্ষী: দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের বিশ্লেষণ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৮

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এক অদম্য ও প্রায়শই অবমূল্যায়িত শক্তি হিসেবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সদস্য এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ রিজার্ভ সদস্য নিয়ে গঠিত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই বৃহত্তম অংশ দেশটির রাজনীতি, গোয়েন্দা সংস্থা ও অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি বিমান হামলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইআরজিসিকে দায়মুক্তির বিনিময়ে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান।

আইআরজিসি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং গত এক মাসে তাদের আরও অনেক নেতা নিহত হলেও তারা পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

মার্কিন স্থল বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি বোঝা জরুরি যে—এক মাসব্যাপী ব্যাপক মার্কিন-ইসরাইলি বোমাবর্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, অভ্যন্তরীণ বিভেদ এবং নেতৃত্ব হারানো সত্ত্বেও—আইআরজিসি যেকোনো স্থল আগ্রাসনকে অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে। তাদের ইতিহাসই বলে দেয় কেন তারা এমনটা করবে।

মিলিশিয়া থেকে সম্মুখ সারির বাহিনী

আইআরজিসি মূলত ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সময় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের’ দর্শনে বিশ্বাসী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত একটি অ্যাড-হক স্ট্রিট মিলিশিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজতন্ত্র উৎখাতের পর যারা ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র গড়তে চেয়েছিল, আইআরজিসি তাদের বিরোধী ছিল এবং নবজাতক ইসলামি বিপ্লবী সরকারকে রক্ষা করতে একটি ন্যাশনাল গার্ড হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিল।

‘পাসদারান-এ ইনকিলাব’ বা ‘বিপ্লবের রক্ষক’ নামে পরিচিত এই বাহিনী দ্রুতই দেশটির সর্বোচ্চ নেতার একনিষ্ঠ বাহিনীতে পরিণত হয়।

শুরুর দিনগুলোতে এটি শাহের আমলের সেনাবাহিনী ‘আর্তেশ’-এর পাল্টা অভ্যুত্থান রুখে দিয়েছিল। আইআরজিসি ধর্মনিরপেক্ষ বামপন্থী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামি মিলিশিয়াদের মতো অন্যান্য বিপ্লবী গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজপথে লড়াই করেছে।

১৯৮০ সালে ইরাকের ইরান আক্রমণের সময় আইআরজিসি জাতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একটি সম্মুখ সারির প্রচলিত যুদ্ধ বাহিনী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

১৯৮২ সালের মধ্যে তারা সাদ্দাম হোসেনের আক্রমণ প্রতিহত করে, যদিও যুদ্ধ আরও ৬ বছর চলেছিল। আইআরজিসির বর্তমান অনেক কমান্ডার তখন তরুণ সৈনিক বা অফিসার ছিলেন এবং তারা প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে পশ্চিমারা নীরব থাকার সুযোগে ইরাক তাদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।

১৯৮০ সালে সাদ্দাম হোসেন যখন ইরানের কুর্দি বিদ্রোহীদের সমর্থন দেন, তখন আইআরজিসি একটি বিদ্রোহ দমনকারী বাহিনী হিসেবেও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে। ১৯৮০-র দশকে উত্তর-পশ্চিমে কুর্দি বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ-পূর্বের বালুচ বিদ্রোহ—সব ধরনের অভ্যন্তরীণ জাতিগত বিদ্রোহ তারা কঠোরভাবে দমন করেছে। ফলে, কুর্দি বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা আইআরজিসি কমান্ডারদের প্রচণ্ড ক্রোধের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যারা কয়েক দশক ধরে এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন।

প্রক্সি বা ছায়াবাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা

আঞ্চলিক প্রক্সি বা ছায়াবাহিনীগুলোর মাধ্যমে আইআরজিসি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের’ ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

১৯৮২ সালে আইআরজিসি একটি বিশেষ বৈদেশিক বাহিনী গঠন করে, যা ‘কুদস ফোর্স’ নামে পরিচিত।

জেরুজালেমের আরবি নাম (আল-কুদস) অনুসারে এর নামকরণ করা হয়। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) বিতাড়িত করতে সে বছর ইসরাইলি আক্রমণের প্রতিবাদে লেবাননে হিজবুল্লাহ গঠনে কুদস ফোর্স সহায়তা করেছিল।

সেই সময় থেকে আইআরজিসি তাদের প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে ইসরাইলের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। ১৮ বছর ধরে হিজবুল্লাহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমার মতো কৌশল ব্যবহার করে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীকে বিপর্যস্ত করে তোলে, যারা শেষ পর্যন্ত ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই অভিযান ব্যাপকভাবে একটি সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।

২০০৩ সালে মার্কিন ইরাক আক্রমণের পর এই কৌশলগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটে, যখন কাতায়েব হিজবুল্লাহর মতো কুদস-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো আইইডি (আইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) দিয়ে সেখানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে মরিয়া হয়ে ইরাক ত্যাগ করে।

লেবানন ও ইরাকের এই ছায়াবাহিনীগুলো থেকে পাওয়া শিক্ষা আইআরজিসি নিশ্চিতভাবে মার্কিন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে।

এই কৌশলগুলোর অনেকগুলোই তৈরি করা হয়েছে দখলদার বাহিনীকে ধীরে ধীরে দুর্বল করার জন্য, যা হয়তো তাৎক্ষণিক কোনো উচ্চ-তীব্রতার স্থল আক্রমণ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি তার লক্ষ্য অর্জনে (যা বর্তমানে অস্পষ্ট) ব্যর্থ হয়, তবে তারা আবার একটি দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্ব এবং নিম্ন-তীব্রতার যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে। আর তেমনটি হলে, আইআরজিসি তাদের সুনিপুণ ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ’ কৌশল প্রয়োগ করবে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘অশুভ অক্ষ’

কয়েক দশকের দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার পর, ২০০১ সালের ৯/১১ হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে একটি সংক্ষিপ্ত জোটে বাধ্য করেছিল। ইরানের তৎকালীন সরকার ২০০১ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় ইরানি ভূখণ্ডে অবতরণ করা দুর্ঘটনাকবলিত মার্কিন পাইলটদের সহায়তার প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু ২০০২ সালের জানুয়ারিতে জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরানকে ইরাক ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কুখ্যাত ‘অশুভ অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব ইভিল’-এর অন্তর্ভুক্ত করেন এবং মার্কিন ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ তাদের লক্ষ্যবস্তু বানান। ইরানের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনধারণায় একটি আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

এর ফলে সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সমঝোতার প্রচেষ্টা শেষ হয়ে যায়। তিন বছর পর, ইরান সরকার কট্টরপন্থী মাহমুদ আহমাদিনেজাদের উত্থানকে সমর্থন করে, যিনি সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আইআরজিসির বিস্তারে ব্যাপক বিনিয়োগ করেন। এরপর থেকে আইআরজিসি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একাধিক নিরাপত্তা কার্যাবলি পরিচালনার জন্য বিবর্তিত হয়েছে।

পরবর্তীতে আইআরজিসি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ডিটেন্টে বা উত্তেজনার প্রশমন ঘটেছিল কেবল ২০১৪ সালে, যখন কুদস ফোর্স ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান সহায়তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে লড়াই করেছিল। ওবামা প্রশাসনের সময় এই সহযোগিতা ঘটেছিল এবং এর এক বছর পরেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যা থেকে ২০১৭ সালে ট্রাম্প নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে যখন আইআরজিসি ঘাঁটিতে আইএস-এর সন্ত্রাসী হামলা হয়, তখন তারা একে মার্কিন গোপন তৎপরতার ফলাফল হিসেবে গণ্য করে। এর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করার পাশাপাশি বালুচ ও কুর্দি বিদ্রোহের উত্থানকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করে।

আইআরজিসির বয়ান অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান যুদ্ধ হলো ১৯৮০-র দশক থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করার লক্ষ্যে প্রক্সি বা অর্থনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমে আইআরজিসিকে আক্রমণ করার একটি পদ্ধতিগত মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ। তাদের কাছে এটি এমন এক সংঘাত যা ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকেই চলে আসছে।

ক্ষমতা রক্ষা

বিগত এক মাসের মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় আইআরজিসি নিঃসন্দেহে দুর্বল হয়েছে, কিন্তু এর ইতিহাস বলে যে, এর কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়বোধ রয়েছে এবং তাদের নেতৃত্ব নিহত হলেও তারা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।

এটিই ব্যাখ্যা করে কেন খামেনির মৃত্যুর পর আইআরজিসি তাদের ক্ষমতা অটুট রাখতে তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। খামেনির মৃত্যুতে কিছু ইরানি আনন্দ প্রকাশ করলেও এবং অধিকাংশ শোক পালন করলেও, আইআরজিসি তার সরকারকে সমর্থন দিতে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট প্রদর্শন করেছে। যদি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তবে আইআরজিসি তার অভ্যন্তরীণ মর্যাদা হারাবে।

আইআরজিসি একটি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলেছে। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত পর্যন্ত বিভিন্ন সেবামূলক খাতে তাদের মালিকানা রয়েছে এবং তারা অর্থনীতির অন্তত ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশেষ সুবিধার এই নেটওয়ার্কটি মূলত একটি ‘ডিপ স্টেট’ বা রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করে। আইআরজিসি কেবল একটি সেনাবাহিনী নয়, বরং একটি পৃথক, স্বায়ত্তশাসিত ও বিশাল সামরিক প্রতিষ্ঠান, যা খামেনির হত্যাকাণ্ডের পরও নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাসের ঘটনাবলি এবং বর্তমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতি যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে তা হলো—তারা আত্মসমর্পণ করার চেয়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৮০৮

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৮০৮

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৮০৮

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৮০৮