শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের গণহত্যাকে জার্মানি কেন নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে?

গাজায় চলমান ইসরাইলি বর্বরোচিত আগ্রাসনের পক্ষে জার্মান সরকারের সমর্থন অনেককেই বিস্মিত করেছে। ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছিলেন,‘এ মুহূর্তে জার্মানবাসীর একটাই পথ। আমরা ইসরাইলের পাশে আছি। ইসরাইলের নিরাপত্তা জার্মান রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত– এর মধ্য দিয়ে মূলত আমরা সে কথাই তুলে ধরি।’ জার্মান সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যকাররা আন্তর্জাতিক আদালত-আইসিজে ইসরাইরের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটিকে ‘স্পষ্টত […]

নিউজ ডেস্ক

০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৩

গাজায় চলমান ইসরাইলি বর্বরোচিত আগ্রাসনের পক্ষে জার্মান সরকারের সমর্থন অনেককেই বিস্মিত করেছে। ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছিলেন,‘এ মুহূর্তে জার্মানবাসীর একটাই পথ। আমরা ইসরাইলের পাশে আছি। ইসরাইলের নিরাপত্তা জার্মান রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত– এর মধ্য দিয়ে মূলত আমরা সে কথাই তুলে ধরি।’ জার্মান সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যকাররা আন্তর্জাতিক আদালত-আইসিজে ইসরাইরের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটিকে ‘স্পষ্টত একতরফা’ ঘোষণা করে একে অবৈধ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরাইলের ভিতরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আল আকসা তুফান অভিযানের পর থেকে পাঁচ মাসে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের সমালোচনাকে বন্ধ করার জন্য জার্মানি হলোকাস্টকে কীভাবে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে বিশ্ব তা দেখেছে। এই সংকটে জার্মান সরকারের আচরণ কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে আলাদা ছিল না: উভয় দেশই ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র পাঠিয়েছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে, জার্মানি আরও এগিয়ে গেছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে তাদের একাত্মতা ঘোষণাকারী প্রতিবাদকারী শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীদের দমনে আরও আক্রমনাত্মকভাবে কাজ করেছে।

জার্মানি হচ্ছে সেই দেশ যেটির ওপর কথিত হলোকাস্টের প্রেতাত্মা ভর করে রয়েছে। নিজের নামের পাশ থেকে সেই কলঙ্ক মুছে ফেলার জন্য দেশটি শুরু থেকে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও এটিকে টিকিয়ে রাখার কাজে সাহায্য করেছে। সেইসঙ্গে গত বছরের অক্টোবরে ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজায় আগ্রাসন চালানোর পর থেকেই ওই হামলাকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে জার্মানি।

জার্মানিতে হলোকাস্ট স্মরণ সংস্কৃতির গঠন এবং বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বিষয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই জার্মানিকে একটি নেতৃস্থানীয় দেশ হিসাবে দেখেন যে দেশটিতে হলোকাস্ট স্মরণের এই সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে যা ইসরায়েলের জন্য নিঃশর্ত সমর্থনের দিকে পরিচালিত করেছে। কিন্তু বাস্তবতা এর চেয়েও জটিল। ১৯৮০ সাল থেকে ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানির রাজনৈতিক কাঠামোতে হলোকাস্ট স্মরণের এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

এই পরিবর্তনগুলোর জন্য বেশিরভাগ দায়ী অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের উপর যিনি গত দুই দশক ধরে জার্মান রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। কিন্তু এটি লক্ষ করা উচিত যে এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো জার্মানির বাম এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের ডানপন্থীদের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত জোট তৈরি করেছিল। আজ, জার্মান জোট সরকার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, গ্রিনস এবং ফ্রি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত। নেইম্যানের মতে ইসরাইল সম্পর্কে এই সরকারের অবস্থান “মার্কিন-ইসরাইল জনসংযোগ কমিটি বা আইপেকের অবস্থানের চেয়ে বেশি রক্ষণশীল এবং সহায়ক।”

২০০৫ সালে যখন লাল-সবুজ সরকারের অবসান ঘটে যখন মার্কেল জার্মানির চ্যান্সেলর হন এবং ১৬ বছর ধরে এই পদে অধিষ্ঠিত হন। ২০০৮ সালে ইসরাইলের পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়ার সময় যেটি জার্মান চ্যান্সেলরের প্রথম বক্তৃতা ছিল মার্কেল জোর দিয়েছিলেন যে তার সমস্ত পূর্বসূরিরা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে “এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমার দেশের জাতীয় স্বার্থের অংশ।”

২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ইসরাইলে জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডলফ ড্রেসার দ্বারা মার্কেলের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। ড্রেসার ২০০৫ সালে একটি নিবন্ধে লিখেছিলেন যে ইসরাইলের নিরাপত্তা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অংশ।

যদিও শব্দটি মূলত জোশকা ফিশারের কাছ থেকে ধার করা হয়েছিল মার্কেলের উপদেষ্টারা এটিকে তার “খ্রিস্টান গণতান্ত্রিক বক্তৃতা শৈলীর” চেয়ে বেশি উপযুক্ত বলে মনে করেছেন। স্পিগেল রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কেলের এই পদক্ষেপটি কোনো বিকল্প নেই নীতি হিসাবে পরিচিত ছিল যেটি কার্যত গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার বৃত্ত থেকে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির নীতিকে সরিয়ে দেয় এবং ঐতিহাসিক জার্গেন জিমারারের মতে এই নীতিটিকে “নো-ননসেন্স” নীতিতে পরিণত করে।

মার্কেল এক্ষেত্রে সফল ছিলেন। জার্মানির প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে একমত যে ইসরাইলের প্রতি দায়িত্ব দেশের জাতীয় স্বার্থের অন্যতম নীতি। ২০২১ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, গ্রিনস এবং ফ্রি ডেমোক্র্যাটদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট সরকার একটি চুক্তি প্রকাশ করেছে যাতে বিস্ময়করভাবে এই ধারাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল যে ইসরাইলের নিরাপত্তাই আমাদের জাতীয় স্বার্থ।

আল-আকসা তুফান অভিযান শুরু হওয়ার পর গাজা যুদ্ধের ব্যাপারে জার্মানির মানবতাবিরোধী সমর্থন বিশ্বব্যাপী বার্লিনের গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়েও কমিয়ে দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আল-আকসা তুফান অভিযান শুরু হওয়ার পাঁচ দিন পর জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস এক বক্তৃতায় গাজা যুদ্ধের ব্যাপারে তার দেশের নীতি সুস্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে জার্মানি শুধুমাত্র ইসরাইলের পাশে থাকতে চায়।”

চ্যান্সেলরের ওই ঘোষণার পর জার্মানি ইসরাইলের কাছে নিজের অস্ত্র রপ্তানি প্রায় ১০ গুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করার জন্য আমেরিকার পর ইসরাইলকে সবচেয়ে বেশি সমরাস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে জার্মানি।

ইসরাইলের প্রতি জার্মানির এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আরব দেশগুলোর জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ তিউনিশিয়ায় জার্মানির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিশু হত্যাকারী ইসরাইলের প্রতি জার্মানির অকুণ্ঠ সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিসে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার প্রোগল যে বক্তব্য দেন তার বিরুদ্ধে তিউনিশিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ওই অনুষ্ঠানে তিউনিশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার গাজাবাসীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এরপর জার্মান রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনা তিউনিশিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে জার্মান দূতাবাসের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় এবং বিক্ষোভকারীরা জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

ইসরাইলের প্রতি জার্মানির সমর্থনের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় তৎপর জার্মানির বহু প্রতিষ্ঠান স্থানীয় জনগণের রোষাণলে পড়েছে।

মার্কেল অফিস ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তার পররাষ্ট্র নীতির উত্তরাধিকারের সমালোচনা বেড়েছে বিশেষ করে চীন এবং রাশিয়ার তুলনায় নিরাপত্তার চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু ৭ই অক্টোবরের পরের ঘটনাগুলো দেখায় যে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির পররাষ্ট্রনীতিতে মার্কেলের পূর্বসরীরাও ধ্বংসাত্মকভাবে কাজ করেছে। ২০০৯ ইসরাইলি পার্লামেন্টে মার্কেলের বক্তৃতার এক বছর পরে নেতানিয়াহু দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন এবং তারপর থেকে ইসরাইল ক্রমবর্ধমানভাবে চরম ডানদিকে ঝুঁকেছে। এখন জার্মানি ইসরাইলের সমালোচনা করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক এমনকি ইসরাইল তাদের ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং তাদের উপর বোমাবর্ষণ করা অব্যাহত রাখলেও।#

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭