সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অর্থনীতি

অর্থ পাচার করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শুকিয়ে ফতুর করে ফেলেছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের হিসাবে, শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের শাসনামলে কেবল বাংলাদেশের আর্থিক খাত থেকেই ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। তবে অন্য অর্থনীতিবিদের হিসাবে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৭

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের হিসাবে, শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের শাসনামলে কেবল বাংলাদেশের আর্থিক খাত থেকেই ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে।

তবে অন্য অর্থনীতিবিদের হিসাবে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচার হওয়া টাকার প্রকৃত পরিমাণ কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। বিভিন্ন ধরনের আর্থিক হিসাব-নিকাশ করে আহসান মনসুর বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তার সহযোগীরা বাংলাদেশের ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ অর্থ লুট করেছে, তা কার্যত পৃথিবীর আর্থিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন এই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে গত অক্টোবরে। আর চলতি সপ্তাহে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক শ্বেতপত্র কমিটি বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে সার্বিকভাবে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।

আহসান মনসুর নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছিল, লুটপাট করার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে ব্যাংক। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো শত শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিভিন্ন কোম্পানির নামে ঋণ দিয়েছে, যে কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোর আদতে কোনো অস্তিত্বই নেই। এই টাকাও কখনো সম্ভবত ব্যাংকে ফিরে আসবে না; এই অর্থের একটি বড় অংশ দেশ থেকে অবৈধভাবে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে ২৭ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করেছেন আহসান মনসুর। তিনি বলেন, ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ হাইজ্যাক করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে সরকারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এভাবে গুন্ডা-মাস্তানদের সহযোগিতায় পুরো ব্যাংক খাতে এমন পদ্ধতিগতভাবে ডাকাতি করেছে, এমন ঘটনা তিনি আর কোথাও দেখেননি।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে আহসান মনসুর বলেন, আগামী বছর অর্থনীতির আকাশে আরও কালো মেঘের ঘনঘটা থাকবে। এরপর অর্থনীতির আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে।

শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে গেছেন। তার ভাগ্যে কী আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

এর মধ্যে শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্বাহী পরিচালক এ কে এম এহসান। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

সম্প্রতি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ‘উইচ হান্ট’ করা হচ্ছে, তিনি এর বাইরে নন।

নিউইয়র্ক টাইমস শেখ হাসিনা ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খালি পড়ে আছে। এরপর তারা শেখ হাসিনার মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হয়নি।

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মান্নানের পদত্যাগের ঘটনা সবিস্তারে তুলে ধরেছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি আর দশটা সাধারণ দিনের মতো আব্দুল মান্নান কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পথিমধ্যে তিনি একটি ফোন কল পান। কলটি করেছিলেন সামরিক গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান। তাকে বলা হয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি যেন সংস্থাটির সদর দপ্তরে চলে আসেন।

গত অক্টোবর মাসে আব্দুল মান্নান নিউইয়র্ক টাইমসকে সেই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কার্যালয়ে যাওয়ার পর সামরিক গোয়েন্দারা আব্দুল মান্নানের ফোন, ঘড়ি ও ওয়ালেট রেখে দেন। এরপর গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান আব্দুল মান্নানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিবরণ দেন; বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে তিনি যে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন, সে জন্য তার প্রশংসা করেন।

আব্দুল মান্নান ও আহসান মনসুর একই সুরে বলেন, ওই ঘটনার পর এস আলম গোষ্ঠী ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কবজা করে। এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম ট্রেডার হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশেষ করে শেখ হাসিনার আমলে জ্বালানি, আবাসন খাতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।

 

অর্থনীতি

গ্যাস সংকটে ৩০০ কারখানা বন্ধ, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে: বিকেএমইএ সভাপতি

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিকেএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে সব কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা উৎপাদন করতে পারছি না, শ্রমিকের বেতন দিতে পারছি না। আমাদের দেড় থেকে প্রায় দুই মিলিয়নের কাছাকাছি রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের ৪০ থেকে […]

গ্যাস সংকটে ৩০০ কারখানা বন্ধ, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে: বিকেএমইএ সভাপতি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিকেএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে সব কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আমরা উৎপাদন করতে পারছি না, শ্রমিকের বেতন দিতে পারছি না। আমাদের দেড় থেকে প্রায় দুই মিলিয়নের কাছাকাছি রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এই গ্যাস সংকটকালে প্রায় ৩০০ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।’

এ সময় গ্যাস সংকট মোকাবিলায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া অন্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের দাবিসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়।

এক মাস ধরে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত মাসের ২০ তারিখ থেকে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। এই একমাসে কোনো কোনো এলাকায় সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন বন্ধ ছিল।

গ্যাসের চাপ একেবারেই জিরো ছিল। মাঝখানে আমাদের সরকার আশ্বস্ত করেছিলেন চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে স্বাভাবিক হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই দিন থেকে গ্যাস নেই। মাঝখানে দুই দিনের জন্য গ্যাস পেয়েছিলাম, এরপর আবার নেই।’

বায়ারদের অর্ডার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার শঙ্কা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আমাদের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বায়ারদের চাপ বাড়ছে। অর্ডার অন্য জায়গায় শিফট হয়ে যাচ্ছে, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

এরকম সংকটের মধ্যে বায়াররা শঙ্কিত সামনের দিনগুলোতে রফতানি আদেশ আমরা সময়মতো দিতে পারবো কিনা। এই কারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু রফতানি আদেশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে চাচ্ছে বায়াররা। এতে আমরা বেশ সংকটের মধ্যে আছি। আমাদের সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কী করবে কেউ ভেবে পাচ্ছে না।’

সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করে হাতেম বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না। জুন-জুলাই মাসের গ্যাস বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ যেন করে দেওয়া হয়। কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাস বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে কোনোভাবেই যেন তাদের লাইন না কাটা হয়।

গ্যাস সংকটের মধ্যে আমরা শিল্প মালিকরা কী করতে পারি এই বিষয়ে সরকার যেন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমাদেরকে দেয়। প্রতি সপ্তাহে যেন সরকার ব্রিফিং করে এই বিষয়ে আপডেট দেওয়া হয়। কারণ আমরা অন্ধকারে আছি পুরো বিষয় নিয়ে। প্রতিনিয়ত নানা গুজব ছড়াচ্ছে।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যতীত অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকার যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তিতাস বলছে তাদের ৮ থেকে ১০ পার্সেন্ট সিস্টেম লস হয়, অর্থাৎ এই পরিমাণ গ্যাস প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবে। তাদের যেন ঋণখেলাপি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা না হয় সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

গ্যাস সংকট চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রসঙ্গে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের নানা পর্যায়ের ক্ষতি হয়েছে। আমি উৎপাদন করতে পারছি না। শ্রমিকের বেতন দিতে পারছি না। আমাদের দেড় মিলিয়ন থেকে প্রায় দুই মিলিয়নের কাছাকাছি রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোনও উৎপাদন করতে না পেরেও আমাদের শ্রমিকের বেতনসহ সব ব্যয় মেটাতে হবে। বায়াররা অন্যদিকে অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে। আমরা সংকটে সবসময় ছিলাম। তবে এত বড় সংকট কখনও মোকাবিলা করতে হয়নি। এই সংকটকালে ৩০০ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।’

অর্থনীতি

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালু, রাত থেকেই বাড়বে গ্যাস সরবরাহ

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু হয়েছে। এতে করে মধ্যরাত নাগাদ এই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এলএনজিবাহী একটি কার্গো আজ শনিবার দুপুরের দিকে মহেশখালী সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানান হয়, বিকেল ৪টা নাগাদ এলএনজি থেকে সরবরাহ ঘণ্টায় ৬৮৬ […]

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালু, রাত থেকেই বাড়বে গ্যাস সরবরাহ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৩

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু হয়েছে। এতে করে মধ্যরাত নাগাদ এই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এলএনজিবাহী একটি কার্গো আজ শনিবার দুপুরের দিকে মহেশখালী সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়।

পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানান হয়, বিকেল ৪টা নাগাদ এলএনজি থেকে সরবরাহ ঘণ্টায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে; দুপুর ১২টার দিকে সরবরাহ ছিল ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেলে এলএনজিসহ গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে দৈনিক ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও নিয়মিত ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তবে গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লেগে গেলে সরবরাহ কমতে থাকে।

গত এক মাসে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুইটি টার্মিনালে বারবার বিপত্তি দেখা দিলে দেশে একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গিয়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩৭৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখতে হয়েছিল।রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, দুপুর ২টার দিকে এক্সিলারেটের এফএসআরইউর কাছে একটি এলএনজি কার্গো এসে পোঁছায়। ৭ ঘণ্টা পর আনলোড শুরু হবে।

এ দিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে আছে সারা দেশের শিল্প কারখানা। নতুন করে গ্যাস আসার খবরে ফের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করছেন শিল্প মালিকেরা। তবে যেসব এলাকায় গ্যাস নেই সেখানে গ্যাস পৌঁছাতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিতরণ সংস্থা তিতাস।

অর্থনীতি

২ বছরে পোশাক খাতে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে: বিজিএমইএ সভাপতি

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিজিএমইএর মধ্যে আজ মঙ্গলবার […]

২ বছরে পোশাক খাতে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে: বিজিএমইএ সভাপতি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৬

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিজিএমইএর মধ্যে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মাহমুদ হাসান খান।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, শিল্পে নিয়মিত কিছু কারখানা বন্ধ হয়, আবার নতুন কারখানাও চালু হয়- এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। তবে শিল্পের প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান বাড়ছে নাকি কমছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সম্প্রতি প্রায় ১৩৯টি নতুন কারখানা শিল্পে যুক্ত হয়েছে। এটি কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। তবে গত দুই বছরে যেসব কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর কারণে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমে গেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে।

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি, দেশের নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দক্ষতার ঘাটতি এবং ব্যাংকগুলোর হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন— সব মিলিয়েই কিছু কারখানা সংকটে পড়েছে’-উল্লেখ করেন তিনি।

ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হলেও নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এরই মধ্যে অন্য কারখানায় যোগ দিয়েছেন। কেউ দেশের বাইরে চাকরি নিয়েছেন, আবার কেউ অন্য পেশায় চলে গেছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে।তিনি বলেন, সরকার জানিয়েছে, আগামী ৮ বা ৯ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে। এ সংকটে আর্থিক ক্ষতি তো হয়েছেই, তবে তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো— আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা যেন ক্ষুণ্ন না হয়।

এ কারণে বাংলাদেশে কার্যরত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জানানো, তাদের প্রত্যাশা বোঝা এবং কীভাবে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

জুলাই মাসে রপ্তানি কিছুটা কমেছে বলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কারণ চলতি বছরের জুলাইয়ের রপ্তানি তুলনা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে, যা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির মাস ছিল।