মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গাঁজা সেবনের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও বামনেতা ইভান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইউছুব ওসমান বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিএসসি এলাকায় চা পান করতে গেলে ইভান তাহসিব উদীচীর নেতাকর্মীসহ ১৫-২০ জন বামপন্থি নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ঘিরে ধরে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৫, ২২:৫৭

রোকুনুজ্জামান, জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর রুমে গাঁজা সেবনের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসিবের নেতৃত্বে বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দুই সাংবাদিককে ঘিরে ধরে মব সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। এরআগে গতকাল উদীচীর রুমে গাজা সেবনের বিষয়টি নিয়ে আজ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ ঘিরেই দুই সাংবাদিককে হেনস্তার চেষ্টা বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠকরা।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকাল ৩ টা নাগাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইউছুব ওসমান বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিএসসি এলাকায় চা পান করতে গেলে ইভান তাহসিব উদীচীর নেতাকর্মীসহ ১৫-২০ জন বামপন্থি নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ঘিরে ধরে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।

প্রতক্ষদর্শীরা আরও জানান, এসময় প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন তারা। কেন এ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, এ বিষয়ে উচ্চস্বরে প্রশ্ন তোলেন এবং উত্তেজিত আচরণ করেন। সাংবাদিকরা জানান, তারা যেকোনো বিষয়ে প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণের অনুরোধ জানালে বাম নেতারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ঘটনার একপর্যায়ে মেহেদী ও ইউছুবকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সালমান ইসলাম রিয়ন বলেন, মেহেদী ভাই এবং ইউছুব ভাই সেখানে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন। তখনই ইভানসহ বাকিরা তাদেরকে ঘিরে ধরে তাদের ওপর চড়াও হোন। উচ্চবাচ্য শুরু করেন। তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, “চায়ের দোকানের সামনে মোস্তাকিন নামের একজন আমাকে এসে বলে ভাইয়া আপনি তো আমাকে চেনেন। আমি বললাম হ্যাঁ চিনি। তখন সে উত্তরে বলে ‘ভাই, আপনি একজন খারাপ মানুষ।’ এই কথাটা ৫-৭ বলে আমাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। আমি সামান্য উত্তেজিত না হয়েও তার সাথে কথা বলি। এরপর পাশ থেকে ইভান এসে আমাদের বলে কালকে আলোচনা হয়েছে নিউজ না করার জন্য। আজকে এভাবে তথ্য প্রমাণ ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ করলেন। আপনাদের ইথিকস নাই।”

জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইউছুব ওসমান বলেন, আমি এবং আমার সভাপতি টিএসসি তে চা পান করছিলাম। এসময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভ উদীচীর নেতাকর্মীসহ বাম নেতাদের সাথে নিয়ে এসে আমাদের ঘিরে ধরেন। এরপর ইভান আমাদের সাথে উচ্চবাচ্য শুরু করেন। তারা আমাদের সাথে উচ্চকণ্ঠে নিউজ কেন প্রকাশিত হয়েছে তার কারণ জানতে চান। তখন আমরা বলি, সংবাদ প্রকাশের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেই নিউজ করা হয়েছে। তখন ইভান চিৎকার করে প্রমাণ দেখানোর কথা বলে। তখন আমি বলি, আপনি যথাযথ জায়গায় যোগাযোগ করেন, সেখানেই প্রমাণ উত্থাপন করা হবে। তখন ইভান বলে, এগুলা সাংবাদিকতার ইথিকসের মধ্যে পড়েনা। তখন আমরা বলি, আপনাদের কাছ থেকে আমাদের ইথিকস শেখার কেউ নেই। অভিযোগ থাকলে যথাযথ জায়গায় গিয়ে অভিযোগ করুন। তখন আমরা আপনাদের যেভাবে দেখার দেখে নেবো। তখন আমি বলি, আপনারা সবাই এখানে মব তৈরির চেষ্টা করছেন। এরপর আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদীচীর কক্ষে তীব্র গাজার গন্ধ পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি জানতে গেলে উদীচীর একাধিক সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।

বিষয়ঃ

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।