শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

জবি শিক্ষার্থী ইমুর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে পদ দখলে নেওয়ার অভিযোগ

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল। যেখানে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও যুক্তিবোধ গঠনের জায়গা হওয়ার কথা ছিল হল ডিবেটিং ক্লাব, সেখানে এখন চলছে ক্ষমতার রাজনীতি ও ভয়ভীতি। অভিযোগ উঠেছে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা ইমু কোনো নির্বাচন ছাড়াই, গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে স্বঘোষিতভাবে কমিটি দিয়ে হল ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ […]

জবি শিক্ষার্থী ইমুর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে পদ দখলে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ২১:৫৮

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল। যেখানে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও যুক্তিবোধ গঠনের জায়গা হওয়ার কথা ছিল হল ডিবেটিং ক্লাব, সেখানে এখন চলছে ক্ষমতার রাজনীতি ও ভয়ভীতি।

অভিযোগ উঠেছে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা ইমু কোনো নির্বাচন ছাড়াই, গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে স্বঘোষিতভাবে কমিটি দিয়ে হল ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করেন। তার সাথে বাকি পদগুলোও দখলে নেন তার ঘনিষ্ঠরা।

শুধু তাই নয়, সেই পদকে ঘিরে গড়ে তুলেছেন একদল প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা এখন পুরো হলের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। হল ক্যান্টিনের খাবারের তদারকির নামে ত্রাসের রাজত্ব থেকে শুরু করে, হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী তুলা। সবকিছুর নেতৃত্বেই থাকেন ইমু ও তার ঘনিষ্ঠরা। হল প্রভোস্টের সরাসরি বিভাগের ছাত্রী হওয়ায় তাঁর প্রশ্রয়েই ইমু ও তার সহযোগীরা এসব অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিবেটিং ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল পদ খোলা ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা। গঠনতন্ত্রের ৬ ও ৭ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, সদস্যদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পদে কাউকে বসানো যাবে না। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে ইমু নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করে প্রভাব বিস্তার করে তা ঘোষণা করেন।

তাদের এই সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দেন হল ডিবেটিং ক্লাবের সেই সময়ের নেত্রী সিনিয়র নাঈমা আক্তার রিওতা ও শারমিন সুলতানা নিশি। তারা সম্ভাব্য অন্যন্য পদপ্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে ও চাপ প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের ইমুসহ বাকিদের নির্বাচন ছাড়াই অবৈধভাবে পদ দিয়ে কমটি ঘোষণা করে। তাদের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হলেও ভয় ও চাপে অনেকে মুখ খুলতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইমুকে ঘিরে এখন হলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ডিবেটিং সিন্ডিকেট’—যারা নামেমাত্র বিতর্ক ক্লাব চালালেও মূলত সেই সংগঠনকেই ব্যবহার করছে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে। এই চক্রের মাধ্যমে ইমু নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন, আর সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা তাঁর হয়ে কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে হল ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক নেত্রী নাঈমা আক্তার রিতা ও শারমিন সুলতানা নিশি এসব সিন্ডিকেটের দেখভাল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে কমিটি গঠনের সময় তাঁরা ফোন ও মেসেজ দিয়ে এবং সরাসরি কথা বলে অন্য শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান ও চাপ প্রয়োগ করেন। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। হল ডিবেটিং ক্লাবের একজন সদস্য বলেন, আমরা ভেবেছিলাম নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

কিন্তু একদিন হঠাৎ দেখলাম ইমুকে সাধারণ সম্পাদক করে বাকি পদেও তাদের পছন্দের মানুষদের দিয়ে নির্বাচন ছাড়াই অবৈধভাবে কমিটি ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে সবকিছু ওদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।”

আরেকজন বলেন, “ইমুর চারপাশে এখন একটা চক্র গড়ে উঠেছে। তারা ডিবেটিং ক্লাবের নাম ব্যবহার করে এবং প্রভোশটের বিভাগের ছাত্রি হওয়ায় সে তাঁর খুব ক্লোজ। এই পরিচয় দিয়ে এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নাম ব্যবহার করে হলে ভয় আর প্রভাব বিস্তার করছে।”

হলের অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ইমু প্রভোস্টের বিভাগের ছাত্রী হওয়ায় তিনি এই সম্পর্ককে প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, ইমু প্রভোস্টের ছাত্রী, তাই তার কিছু হবে না। তাই কেউ সাহস করে কথা বলে না।

এদিকে, ক্যান্টিনের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনাতেও এই সিন্ডিকেটের আচরণ আলোচনায় আসে। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে মাবুদা প্রমাণসহ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে, ইমু তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন।

মাবুদা জানান, “ইমু আপু আমার রুমে এসে বলেন কেন ভোটের প্রসঙ্গ আনলি? এখনই ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দিবি। এমনকি ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করেন।” এই ঘটনার পর অনেকেই বলেন, “এখানে খাবারের মান নয়, আসল বিষয় হচ্ছে ইমুর ক্ষমতা ও দাপট।”

হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ইমু শুধু ডিবেটিং ক্লাব নয়, পুরো হলের নানা কার্যক্রমে প্রভাব খাটাচ্ছেন। ক্যান্টিন, রুম বণ্টন বা কোনো অভিযোগ সব জায়গায় তাঁর কথাই শেষ কথা। কেউ প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হন। একজন বলেন, “ইমু আর তাঁর চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। আমাদের মতামতের কোনো মূল্য নেই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেমাতুজ জোহরা ইমু বলেন, “প্রতিষ্ঠাকালীন ডিবেটিং কমিটি দেয়ার পর আমাদের টি ছিলো দ্বিতীয় কমিটি। নির্বাচন কেউ কখন দেয়, যখন একাধিক ম্যাডাম ক্লাবে থাকে। কিন্তু ডিবেটিং কমিটিতে তেমন একাধিক সদস্য প্রতিদ্বন্দী না থাকায় প্রতিষ্ঠাকালীন ডিবেটিং ক্লাব কমিটির আগের ইসি, ট্রেজারার ম্যাম ড.সাবিনা শরমীন, মডারেটর বুশরা জামান ম্যাম, প্রভোস্ট ম্যাম আঞ্জুমান আরা ম্যাম বর্তমান কমিটির পুরো প্রক্রিয়ায় ছিলেন। এ প্রক্রিয়ায় যদি গাফিলতি থাকে, তাহলে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে আমি মনে করি তাদের সাথে আগে বসা উচিত।”

এ বিষয়ে নাইমা আক্তার রিতা আর শারমিন সুলতানা নিশির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

হল ডিবেটিং ক্লাবের বিষয়ে হল প্রভোস্ট এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আঞ্জুমান আরাকে বার বার কল করলেও তিনি কল ধরেন নি, তবে এর আগে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

যদি ইমু সত্যিই তাকে (মাবুদা) ক্ষমা চাইতে বলতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে থাকে, তাহলে তাকেও ক্ষমা চাইতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ এসেছে, বরবটি-কলমিশাক নিষিদ্ধ করা ছিল। তবুও কেন আনা হলো সেটিও তদন্ত করা হবে। রোববার বৈঠক ডাকা হয়েছে।”

প্রভোস্ট আরও স্বীকার করেন, “আমি শুনেছি ইমু মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ বিষয়ে হলে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।