শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

জবি শিক্ষার্থী ইমুর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে পদ দখলে নেওয়ার অভিযোগ

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল। যেখানে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও যুক্তিবোধ গঠনের জায়গা হওয়ার কথা ছিল হল ডিবেটিং ক্লাব, সেখানে এখন চলছে ক্ষমতার রাজনীতি ও ভয়ভীতি। অভিযোগ উঠেছে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা ইমু কোনো নির্বাচন ছাড়াই, গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে স্বঘোষিতভাবে কমিটি দিয়ে হল ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ […]

জবি শিক্ষার্থী ইমুর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে পদ দখলে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ২১:৫৮

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল। যেখানে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও যুক্তিবোধ গঠনের জায়গা হওয়ার কথা ছিল হল ডিবেটিং ক্লাব, সেখানে এখন চলছে ক্ষমতার রাজনীতি ও ভয়ভীতি।

অভিযোগ উঠেছে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা ইমু কোনো নির্বাচন ছাড়াই, গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে স্বঘোষিতভাবে কমিটি দিয়ে হল ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করেন। তার সাথে বাকি পদগুলোও দখলে নেন তার ঘনিষ্ঠরা।

শুধু তাই নয়, সেই পদকে ঘিরে গড়ে তুলেছেন একদল প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা এখন পুরো হলের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। হল ক্যান্টিনের খাবারের তদারকির নামে ত্রাসের রাজত্ব থেকে শুরু করে, হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী তুলা। সবকিছুর নেতৃত্বেই থাকেন ইমু ও তার ঘনিষ্ঠরা। হল প্রভোস্টের সরাসরি বিভাগের ছাত্রী হওয়ায় তাঁর প্রশ্রয়েই ইমু ও তার সহযোগীরা এসব অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিবেটিং ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল পদ খোলা ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা। গঠনতন্ত্রের ৬ ও ৭ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, সদস্যদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পদে কাউকে বসানো যাবে না। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে ইমু নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করে প্রভাব বিস্তার করে তা ঘোষণা করেন।

তাদের এই সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দেন হল ডিবেটিং ক্লাবের সেই সময়ের নেত্রী সিনিয়র নাঈমা আক্তার রিওতা ও শারমিন সুলতানা নিশি। তারা সম্ভাব্য অন্যন্য পদপ্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে ও চাপ প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের ইমুসহ বাকিদের নির্বাচন ছাড়াই অবৈধভাবে পদ দিয়ে কমটি ঘোষণা করে। তাদের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হলেও ভয় ও চাপে অনেকে মুখ খুলতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইমুকে ঘিরে এখন হলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ডিবেটিং সিন্ডিকেট’—যারা নামেমাত্র বিতর্ক ক্লাব চালালেও মূলত সেই সংগঠনকেই ব্যবহার করছে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে। এই চক্রের মাধ্যমে ইমু নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন, আর সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা তাঁর হয়ে কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে হল ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক নেত্রী নাঈমা আক্তার রিতা ও শারমিন সুলতানা নিশি এসব সিন্ডিকেটের দেখভাল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে কমিটি গঠনের সময় তাঁরা ফোন ও মেসেজ দিয়ে এবং সরাসরি কথা বলে অন্য শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান ও চাপ প্রয়োগ করেন। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। হল ডিবেটিং ক্লাবের একজন সদস্য বলেন, আমরা ভেবেছিলাম নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

কিন্তু একদিন হঠাৎ দেখলাম ইমুকে সাধারণ সম্পাদক করে বাকি পদেও তাদের পছন্দের মানুষদের দিয়ে নির্বাচন ছাড়াই অবৈধভাবে কমিটি ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে সবকিছু ওদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।”

আরেকজন বলেন, “ইমুর চারপাশে এখন একটা চক্র গড়ে উঠেছে। তারা ডিবেটিং ক্লাবের নাম ব্যবহার করে এবং প্রভোশটের বিভাগের ছাত্রি হওয়ায় সে তাঁর খুব ক্লোজ। এই পরিচয় দিয়ে এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নাম ব্যবহার করে হলে ভয় আর প্রভাব বিস্তার করছে।”

হলের অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ইমু প্রভোস্টের বিভাগের ছাত্রী হওয়ায় তিনি এই সম্পর্ককে প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, ইমু প্রভোস্টের ছাত্রী, তাই তার কিছু হবে না। তাই কেউ সাহস করে কথা বলে না।

এদিকে, ক্যান্টিনের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনাতেও এই সিন্ডিকেটের আচরণ আলোচনায় আসে। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে মাবুদা প্রমাণসহ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে, ইমু তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন।

মাবুদা জানান, “ইমু আপু আমার রুমে এসে বলেন কেন ভোটের প্রসঙ্গ আনলি? এখনই ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দিবি। এমনকি ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করেন।” এই ঘটনার পর অনেকেই বলেন, “এখানে খাবারের মান নয়, আসল বিষয় হচ্ছে ইমুর ক্ষমতা ও দাপট।”

হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ইমু শুধু ডিবেটিং ক্লাব নয়, পুরো হলের নানা কার্যক্রমে প্রভাব খাটাচ্ছেন। ক্যান্টিন, রুম বণ্টন বা কোনো অভিযোগ সব জায়গায় তাঁর কথাই শেষ কথা। কেউ প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হন। একজন বলেন, “ইমু আর তাঁর চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। আমাদের মতামতের কোনো মূল্য নেই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেমাতুজ জোহরা ইমু বলেন, “প্রতিষ্ঠাকালীন ডিবেটিং কমিটি দেয়ার পর আমাদের টি ছিলো দ্বিতীয় কমিটি। নির্বাচন কেউ কখন দেয়, যখন একাধিক ম্যাডাম ক্লাবে থাকে। কিন্তু ডিবেটিং কমিটিতে তেমন একাধিক সদস্য প্রতিদ্বন্দী না থাকায় প্রতিষ্ঠাকালীন ডিবেটিং ক্লাব কমিটির আগের ইসি, ট্রেজারার ম্যাম ড.সাবিনা শরমীন, মডারেটর বুশরা জামান ম্যাম, প্রভোস্ট ম্যাম আঞ্জুমান আরা ম্যাম বর্তমান কমিটির পুরো প্রক্রিয়ায় ছিলেন। এ প্রক্রিয়ায় যদি গাফিলতি থাকে, তাহলে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে আমি মনে করি তাদের সাথে আগে বসা উচিত।”

এ বিষয়ে নাইমা আক্তার রিতা আর শারমিন সুলতানা নিশির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

হল ডিবেটিং ক্লাবের বিষয়ে হল প্রভোস্ট এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আঞ্জুমান আরাকে বার বার কল করলেও তিনি কল ধরেন নি, তবে এর আগে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

যদি ইমু সত্যিই তাকে (মাবুদা) ক্ষমা চাইতে বলতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে থাকে, তাহলে তাকেও ক্ষমা চাইতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ এসেছে, বরবটি-কলমিশাক নিষিদ্ধ করা ছিল। তবুও কেন আনা হলো সেটিও তদন্ত করা হবে। রোববার বৈঠক ডাকা হয়েছে।”

প্রভোস্ট আরও স্বীকার করেন, “আমি শুনেছি ইমু মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ বিষয়ে হলে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।